রাজধানীর বায়ুদূষণ পর্যবেক্ষণ ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য সরবরাহের লক্ষ্যে শুরু হয়েছে ১৮ মাস মেয়াদি ‘ব্রিদিং ঢাকা’ প্রকল্প। মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরে এর উদ্বোধন করা হয়। অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশন ও ক্যাপসের যৌথ উদ্যোগে এবং শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইপিকের অর্থায়নে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় আটটি পিএম২.৫ পর্যবেক্ষণকেন্দ্র স্থাপন করা হবে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ঢাকার দূষণপ্রবণ ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় মোট আটটি পিএম২.৫ (সূক্ষ্ম বস্তুকণা) পর্যবেক্ষণকেন্দ্র স্থাপন করা হবে।
- প্রকল্পটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশন ও বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস)।
- যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিদ্যালয়ের এনার্জি পলিসি ইনস্টিটিউটের (ইপিক) ‘এয়ার কোয়ালিটি ফান্ড ২০২৬’-এর আওতায় এই ১৮ মাস মেয়াদি প্রকল্পে অর্থায়ন করা হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রাজধানীর বায়ুদূষণ পর্যবেক্ষণ এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য নির্ভরযোগ্য বায়ুমানের তথ্য সহজলভ্য করতে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ‘ব্রিদিং ঢাকা’ প্রকল্প। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিবেশ ভবনে ১৮ মাস মেয়াদি এই প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন করা হয়। এই উদ্যোগের আওতায় ঢাকার বিভিন্ন দূষণপ্রবণ ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় মোট আটটি পিএম২.৫ (সূক্ষ্ম বস্তুকণা) পর্যবেক্ষণকেন্দ্র স্থাপন করা হবে, যেখান থেকে পাওয়া রিয়েল-টাইম তথ্য জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে।
এই প্রকল্প বাস্তবায়নে যৌথভাবে কাজ করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশন ও বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস)। এতে প্রধান আর্থিক অনুদান প্রদান করেছে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিদ্যালয়ের এনার্জি পলিসি ইনস্টিটিউটের (ইপিক) পরিচালিত ‘এয়ার কোয়ালিটি ফান্ড ২০২৬’। প্রকল্পের মাধ্যমে সংগৃহীত দূষণ উপাত্ত সরাসরি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ব্যবহার করা হবে, যা ভবিষ্যতে কার্যকর বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুত্ফর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিপার্টমেন্ট অব ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটির আরবান এনভায়রমেন্টাল ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এ টি এম নুরুল আমিন। ক্যাপসের চেয়ারম্যান ও প্রকল্পের কারিগরি প্রধান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জানানো হয় যে, তথ্যের সর্বোচ্চ নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত যন্ত্রপাতি ক্যালিব্রেশন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের রেফারেন্স মনিটরের সঙ্গে উপাত্তের তুলনামূলক মান নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার বায়ুদূষণের মাত্রা দিন দিন বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছানোর কারণে বস্তি ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকাগুলোর মানুষ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাপ্ত সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক উপাত্ত সাধারণ মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি নীতিনির্ধারকদের নির্দিষ্ট এলাকার জন্য লক্ষ্যভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণে সরাসরি সহায়তা করবে। এর ফলে নগরীর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।