সিলেটে পুলিশ হেফাজতে রায়হান উদ্দিন হত্যা মামলায় বরখাস্তকৃত এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার (২০ মার্চ) সিলেটের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে কনস্টেবল হারুন-অর-রশিদ ও টিটু চন্দ্র দাসকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ২০২০ সালের ১১ অক্টোবর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হানের মৃত্যু হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- সিলেটের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. মমিন উল্লাহ প্রধান আসামি এসআই আকবরকে মৃত্যুদণ্ড এবং ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদানের আদেশ দেন।
- মামলার অন্য দুই আসামি কনস্টেবল হারুন-অর-রশিদ ও টিটু চন্দ্র দাসকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
- ২০২০ সালের ১১ অক্টোবর ভোরে সিলেট নগরীর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান উদ্দিনের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নী কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
সিলেটের আলোচিত রায়হান উদ্দিন হত্যা মামলায় প্রধান আসামি বরখাস্তকৃত এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার দুপুরে সিলেটের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. মমিন উল্লাহ এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আকবরকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া কনস্টেবল হারুন-অর-রশিদ ও টিটু চন্দ্র দাসকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। মামলার অন্য দুই আসামি এএসআই আশেক এলাহী ও কনস্টেবল তৌহিদ মিয়া খালাস পেয়েছেন।
মামলার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১১ অক্টোবর ভোরে সিলেট নগরীর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে গুরুতর আহত হন রায়হান উদ্দিন। পরে তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে রায়হানের শরীরে ১১১টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়, যার মধ্যে দুটি ছিল অত্যন্ত গুরুতর। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৫ মে আকবরসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল।
রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও বাদীপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করলেও রায়হানের মা আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, প্রধান আসামি আকবর জামিন নিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ায় এই রায়ের তাৎক্ষণিক কার্যকারিতা নিয়ে তিনি শঙ্কিত। উল্লেখ্য, ঘটনার পর আকবর সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে গেলেও পরে তাকে কানাইঘাট সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে তার অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে।
এই রায়কে বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে একটি বড় বার্তা হিসেবে দেখছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হওয়া বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রমাণ করে। তবে পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে রায় কার্যকর করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এই রায় ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।