চলতি দীপাবলি ও ধনতেরাসে ফিজিক্যাল মেটালের বদলে বিনিয়োগকারীদের নজর কাড়ছে ডিজিটাল সোনা ও রুপোর ইটিএফ (ETF)। বাজার বিশ্লেষক সংস্থা ‘ভ্যালু রিসার্চ’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে রুপোর ইটিএফ গড়ে ২৫.০৪ শতাংশ এবং সোনা ১৫.৭৯ শতাংশ রিটার্ন দিয়েছে। তবে বেশি মুনাফার পাশাপাশি রুপোতে বাজার অস্থিরতা ও ঝুঁকির পরিমাণও বেশ বেশি।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ভ্যালু রিসার্চের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিগত ১ বছরে রুপোর ইটিএফ ২৫.০৪ শতাংশ এবং সোনার ইটিএফ ১৫.৭৯ শতাংশ রিটার্ন প্রদান করেছে।
- দীর্ঘমেয়াদী ৩ বছরের পরিসংখ্যানেও এগিয়ে রয়েছে সাদা ধাতু; রুপো ও সোনার ইটিএফ থেকে বিনিয়োগকারীরা যথাক্রমে ৩৫.৯৬ শতাংশ এবং ৩০.৫৮ শতাংশ মুনাফা পেয়েছেন।
- গত ৩ মাসে সোনার ইটিএফের দাম ৩.৮৬ শতাংশ কমলেও রুপোর ইটিএফের মূল্য ১৭.০৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা শিল্প চাহিদার ওপর নির্ভরশীল এই ধাতুর উচ্চ অস্থিরতা নির্দেশ করে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দীপাবলি ও ধনতেরাসের প্রাক্কালে চাঙ্গা ভারতীয় তথা এশীয় শেয়ারবাজার। আলোর এই উৎসবে গয়না বা ফিজিক্যাল কয়েনের মতো প্রথাগত মেটালের পরিবর্তে আমজনতার পছন্দের তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করে নিচ্ছে এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড বা ইটিএফ (ETF)। ফিজিক্যাল সোনা-রুপো কেনার ঝক্কি এড়াতে ডিম্যাট অ্যাকাউন্টে ডিজিটাল মাধ্যমে বিনিয়োগের এই ধারা এখন বেশ জনপ্রিয়। তবে বিনিয়োগকারীদের মনে বর্তমানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— এই মৌসুমে কোন ধাতু দেবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় রিটার্ন? সোনা নাকি রুপো? বাজার বিশ্লেষক সংস্থা ‘ভ্যালু রিসার্চ’-এর সাম্প্রতিক ডেটা অনুযায়ী, স্বল্প ও দীর্ঘ— দুই মেসারই রিটার্নের নিরিখে সোনাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে রয়েছে রুপো।
বাজার বিশ্লেষণ বলছে, বিগত এক বছরে রুপোর ইটিএফ গড়ে ২৫.০৪ শতাংশ দুর্দান্ত রিটার্ন দিয়েছে, যেখানে সোনার ইটিএফের রিটার্ন থেমে রয়েছে ১৫.৭৯ শতাংশে। অন্যদিকে, ৩ বছরের দীর্ঘমেয়াদি লগ্নির ক্ষেত্রেও সাদা ধাতু আধিপত্য বজায় রেখেছে। গত তিন বছরে রুপো ও সোনার ইটিএফ থেকে বিনিয়োগকারীরা যথাক্রমে ৩৫.৯৬ শতাংশ এবং ৩০.৫৮ শতাংশ মুনাফা অর্জন করেছেন। এই তালিকায় পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে শীর্ষে রয়েছে টাটা সিলভার ইটিএফ এবং আদিত্য বিড়লা সান লাইফ গোল্ড ইটিএফ। তবে অতীতের উচ্চ রিটার্ন দেখে অন্ধের মতো সব পুঁজি রুপোতে বিনিয়োগ করার আগে সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা, কারণ রুপোর বাজারে ঝুঁকি ও ভোল্াটিলিটি সোনার তুলনায় অনেকটাই বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনা প্রথাগতভাবে একটি সুরক্ষিত সম্পদ বা 'সেফ হেভেন' হিসেবে কাজ করলেও, রুপো সরাসরি শিল্প খাতের ওপর নির্ভরশীল। ইলেকট্রিক ভেহিকল (EV), সোলার প্যানেল এবং ব্যাটারি ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে ব্যাপক ব্যবহারের কারণে রুপোর দাম বৈশ্বিক শিল্প চাহিদার সঙ্গে ওঠানামা করে। সাম্প্রতিক তথ্য প্রমাণ করে, গত ৩ মাসে সোনার ইটিএফের দাম মাত্র ৩.৮৬ শতাংশ কমলেও রুপোর ইটিএফের মূল্য এক ধাক্কায় ১৭.০৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা এর তীব্র অস্থিরতার প্রমাণ।
তা সত্ত্বেও দীপাবলির শুভ মুহূর্তে ইটিএফের প্রতি সাধারণ মানুষের আকর্ষণ বেড়েই চলেছে। এর নেপথ্যে রয়েছে বেশ কিছু বাস্তব সুবিধা; যেমন— গয়না কেনার মতো অতিরিক্ত মেকিং চার্জ বা ভারী জিএসটি দিতে হয় না, ফিজিক্যাল চুরির কোনো ভয় থাকে না এবং এনএসই বা বিএসই-তে লাইভ মার্কেট রেটে সহজেই কেনাবেচা করা যায়। এমনকি খুব কম পরিমাণ মূলধন দিয়েও ইউনিট আকারে বিনিয়োগ শুরু করা সম্ভব হওয়ায় নতুন প্রজন্মের কাছে ইটিএফ এখন আয়ের অন্যতম সেরা মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।