লাইভ
বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম
প্লে-স্টোর অ্যাপ

ফ্রান্সের ইয়েলো ভেস্ট কারা, কীভাবে তাঁদের আন্দোলন শুরু হলো

প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক | তারিখ: 26 অক্টোবর 2026, 08:00 সকাল | পড়ার সময়: 1 মিনিট | 33 বার পঠিত
ফ্রান্সের ইয়েলো ভেস্ট কারা, কীভাবে তাঁদের আন্দোলন শুরু হলো
প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ

ফ্রান্সে সরকারের বিভিন্ন জনবিরোধী নীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলন দেশজুড়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে। রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে দিনভর বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ কমপক্ষে ১৩১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছানোর পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকারের জন্য এটি বড় রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):

  • ফ্রান্সজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোট ১৩১৪ জন আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করেছে।
  • বিক্ষোভের তীব্রতার কারণে রাজধানী প্যারিসের ২৪টি মেট্রো স্টেশন জনসাধারণের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়, যা জনজীবনকে স্থবির করে তোলে।
  • প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর প্রশাসনের জ্বালানি নীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিরুদ্ধে এই গণবিক্ষোভ অগ্নিপরীক্ষার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

ফ্রান্সে সরকারের অর্থনৈতিক নীতি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে শুরু হওয়া 'ইয়েলো ভেস্ট' (Gilets Jaunes) আন্দোলন নতুন করে ব্যাপক সহিংসতার রূপ নিয়েছে। দেশটির প্রধান শহরগুলোতে দিনভর বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তীব্র সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ কঠোর অবস্থান নেয় এবং দেশজুড়ে অভিযান চালিয়ে অন্তত ১৩১৪ জনকে গ্রেপ্তার করে।

এই আন্দোলনের মূল সূত্রপাত ২০১৮ সালের শেষভাগে, যখন সরকার পরিবেশ রক্ষার অজুহাতে জ্বালানি তেলের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের ঘোষণা দেয়। সাধারণ শ্রমিক, মধ্যবিত্ত এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষোভ থেকে জন্ম নেওয়া এই আন্দোলন দ্রুতই দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। চালকদের গাড়িতে বাধ্যতামূলকভাবে রাখা হাই-ভিসিভিবিলিটি হলুদ ভেস্ট বা জ্যাকেটের নামানুসারে আন্দোলনটি 'ইয়েলো ভেস্ট' নামে পরিচিতি লাভ করে, যা পরবর্তীতে ম্যাক্রোঁ সরকারের বিরুদ্ধে একটি বৃহত্তর সরকারবিরোধী প্ল্যাটফর্মে রূপ নেয়।

চলমান বিক্ষোভে প্যারিসসহ বিভিন্ন বড় শহরের জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে এবং সহিংসতা এড়াতে রাজধানী প্যারিসের ২৪টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে টায়ার ও গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়, যার ফলে প্রধান যোগাযোগ ব্যবস্থাগুলো অচল হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনও এই আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে রাজপথে নেমেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর প্রশাসনের জন্য এই আন্দোলন অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করা এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ফিরিয়ে আনার সুনির্দিষ্ট কোনো দীর্ঘমেয়াদি সমাধান না আসায় ক্ষোভের আগুন কমছে না। সরকারের নীতিনির্ধারকরা সংকট নিরসনে সংলাপের আহ্বান জানালেও মাঠপর্যায়ের কঠোর অবস্থানে অচলাবস্থা কাটেনি, যা ফরাসি অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

সম্পাদকীয় নীতি ও তথ্য যাচাই

বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।

অফিসিয়াল অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন

সর্বশেষ খবর ও তাৎক্ষণিক ব্রেকিং পুশ নোটিফিকেশন

প্রতিদিনের নির্ভরযোগ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সবার আগে পড়তে ইনস্টল করুন বাংলা নিউজ ২৪-এর অফিশিয়াল মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। নির্ভুল খবর, তাৎক্ষণিক ব্রেকিং আপডেট ও সাবলীল পাঠ-অভিজ্ঞতা।

GET IT ON
Google Play
গুগল প্লে স্টোরে ক্লোজড বেটা ও আর্লি অ্যাক্সেস লাইভ