ভিয়েতনামে জ্বালানির দাম বাড়ার প্রেক্ষাপটে গাড়ির বিজ্ঞাপিত ও বাস্তব জ্বালানি খরচের ফারাক নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ল্যাব টেস্টের আদর্শ শর্ত এবং বাস্তব রাস্তার যানজট, ঘন ঘন ব্রেক ও এসির ব্যবহারের কারণে প্রতি ১০০ কিলোমিটারে জ্বালানি খরচ অনেক বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা শহুরে ও দীর্ঘ দূরত্বের চালনার ধরন বিচার করে গাড়ি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ভিয়েতনামে গত ৮ই অক্টোবর মূল্য সমন্বয়ের পর E10 RON 95-III পেট্রোলের দাম ১,০৭০ VND বেড়ে প্রতি লিটারে ২৮,২৫০ VND এবং E5 RON 92 পেট্রোলের দাম ১,১৪০ VND বেড়ে প্রতি লিটারে ২৭,৭০০ VND হয়েছে।
- প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো ল্যাবরেটরির সুনির্দিষ্ট আদর্শ পরিস্থিতিতে জ্বালানি খরচ পরিমাপ করে, যা বাস্তব জীবনের শহুরে যানজট, ঘন ঘন গতি পরিবর্তন এবং এসির অতিরিক্ত ব্যবহারের সাথে মিল থাকে না।
- ২০২২ সুবারু ফরেস্টার ২.০আইএস ইএস মডেলের প্রকাশিত সম্মিলিত জ্বালানি খরচ কম হলেও, বাস্তবে শহুরে ও ভারী ট্রাফিকের মধ্যে এর ব্যবহার প্রতি ১০০ কিলোমিটারে প্রায় ৯.৫ থেকে ৯.৭ লিটারে পৌঁছে যায়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ভিয়েতনামে জ্বালানির দাম ক্রমাগত বাড়ার কারণে গাড়িচালকদের মধ্যে জ্বালানি খরচ নিয়ন্ত্রণ একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক মূল্য সমন্বয়ের পর পেট্রোলের দাম প্রতি লিটারে ২৮ হাজার ভিয়েতনামী ডং ছাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই লক্ষ্য করেছেন যে, গাড়ির বিজ্ঞাপনে বা এনার্জি লেবেলে কম জ্বালানি খরচের কথা বলা হলেও বাস্তবে গাড়িগুলো অনেক বেশি গ্যাসোলিন বা ডিজেল খরচ করছে। মূলত আদর্শ ল্যাবরেটরি পরিবেশে নির্ধারিত পরীক্ষার ফলাফল এবং বাস্তব রাস্তার চালনার অবস্থার পার্থক্যের কারণেই এই ব্যবধান তৈরি হয়।
গাড়ির জ্বালানি সাশ্রয় ক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য প্রস্তুতকারক ও পরীক্ষক সংস্থাগুলো শহুরে, শহরের বাইরে এবং সম্মিলিত—এই তিন ধরনের নির্দিষ্ট অপারেটিং পরিস্থিতিতে পরীক্ষা চালায়। তবে এই ফলাফলগুলো প্রতিটি যাত্রার বাস্তব চিত্র তুলে ধরে না। লেবেলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে যে, ব্যবহারের পরিস্থিতি, চালকের দক্ষতা এবং রক্ষণাবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে প্রকৃত জ্বালানি খরচ ভিন্ন হতে পারে। যেমন, সুবারু ফরেস্টার বা হুন্ডাই ক্রেটার মতো জনপ্রিয় মডেলগুলোর ক্ষেত্রেও বিজ্ঞাপনের পরিসংখ্যানের চেয়ে বাস্তবে বেশি জ্বালানি খরচ হতে দেখা যায়।
বাস্তব ক্ষেত্রে জ্বালানি খরচ বাড়ার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে বড় শহরগুলোর তীব্র যানজট, যেখানে গাড়িগুলোকে বারবার গতি বাড়াতে ও কমাতে হয়। হো চি মিন সিটি বা হ্যানয়ের মতো ব্যস্ত শহরে কম দূরত্বে বারবার ইঞ্জিন চালু রাখা এবং ঠান্ডা ইঞ্জিনে যাত্রা শুরু করায় জ্বালানি দক্ষতা মারাত্মকভাবে কমে যায়। এছাড়া অতিরিক্ত ওজন বহন, গাড়ির ছাদে রুফ র্যাক বা লাগেজ বক্স ব্যবহার এবং উচ্চ গতিতে এয়ার কন্ডিশনার বা এসি চালানোর ফলে ইঞ্জিনের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা গ্যাস খরচ বাড়িয়ে দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গাড়ি কেনার সময় বা চালানোর সময় শুধু সর্বনিম্ন বিজ্ঞাপিত জ্বালানি খরচের ওপর নির্ভর না করে চালকদের দৈনন্দিন যাতায়াতের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় ওজন কমানো, হুট করে গতি না বাড়িয়ে পরিমিতভাবে অ্যাক্সিলারেটর ও ব্রেক ব্যবহার করা এবং ট্রাফিকের সাথে সামঞ্জস্য রেখে স্থির গতি বজায় রাখা হলে কিছুটা জ্বালানি সাশ্রয় করা সম্ভব। চালকদের সচেতনতা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণই জ্বালানি খরচ নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।