টঙ্গীর ক্বারীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসায় সাত বছরের এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় ভিকটিম শিশু আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। গত শনিবার বিকেলে গাজীপুরের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। জবানবন্দিতে মামলার প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে বলে নিশ্চিত করেছেন টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর রহমান। এর আগে ২১ অক্টোবর মাদরাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মোসলেহ উদ্দিনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন ভুক্তভোগীর পিতা শাহজালাল রুমি।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- টঙ্গীর ক্বারীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসায় সাত বছরের শিশু নিপীড়নের মামলায় গত শনিবার বিকেলে গাজীপুরের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভিকটিম ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে এবং এতে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর রহমান।
- গত ২১ অক্টোবর এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পিতা শাহজালাল রুমি বাদী হয়ে মাদরাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মোসলেহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন এবং জনতার গণপিটুনির শিকার অভিযুক্ত শিক্ষককে গত বৃহস্পতিবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
- মাদরাসায় ভাঙচুর, মারধর ও ১৭ লাখ টাকা লুটের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ মাওলানা আলমাছ হোসেন শিশুটির পিতা শাহজালাল রুমিকে প্রধান আসামি করে পাল্টা আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন এবং বর্তমানে উভয় পক্ষের দুটি মামলা পুলিশ তদন্ত করছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
টঙ্গীর ক্বারীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসায় সাত বছরের এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় ভিকটিম শিশু আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। গত শনিবার বিকেলে গাজীপুরের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। জবানবন্দি শেষে মামলার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান। এই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে যাচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২১ অক্টোবর, যখন টঙ্গীর ওই মাদরাসায় সাত বছরের শিশুটি নিপীড়নের শিকার হয়। এই ঘটনায় শিশুটির পিতা শাহজালাল রুমি বাদী হয়ে মাদরাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মোসলেহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত শিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পরবর্তীতে পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে, এই ঘটনার জের ধরে মাদরাসায় ভাঙচুর, লুটপাট ও দুজনকে মারধরের অভিযোগে মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ মাওলানা আলমাছ হোসেন একটি পাল্টা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। বর্তমানে দুই পক্ষের দায়ের করা দুটি মামলাই পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর বাবা শাহজালাল রুমি তার মেয়ের ওপর নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার দাবি করার পাশাপাশি মাদরাসা কর্তৃপক্ষের আনা ১৭ লাখ টাকা লুট ও ভাঙচুরের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।
শিশুটির বাবা গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। তিনি সচ্ছল ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তার সন্তানের ওপর হওয়া অন্যায়ের সঠিক বিচার দাবি করেছেন এবং দেশবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন। অন্যদিকে, টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর রহমান জানিয়েছেন যে দুটি মামলাই আইনগত প্রক্রিয়ায় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।