লাইভ
বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম
প্লে-স্টোর অ্যাপ

ঘর আছে, স্বস্তি নেই

প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক | তারিখ: 04 অক্টোবর 2026, 06:00 বিকাল | পড়ার সময়: 1 মিনিট | 61 বার পঠিত
ঘর আছে, স্বস্তি নেই
প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ

রাজধানীর নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো চড়া বাড়িভাড়া ও নাগালের বাইরে যাওয়া ব্যাংকঋণের সুদের কারণে চরম আবাসন সংকটে পড়েছে। ৬০ হাজার টাকা আয়ের পরিবারে ২৫ হাজার টাকা ভাড়াই চলে যাচ্ছে। বিশ্ব বসতি দিবসের তথ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের নগর এলাকায় আবাসন ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ৮৫ লাখ ইউনিটে। এডিবি সম্প্রতি ১০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করলেও সংকট নিরসনে সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা আরও বাড়ানো জরুরি।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):

  • চলতি বছরের আবাসন খাতের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকার তুলনামূলক কম সুবিধার এলাকায়ও দুই বেডরুমের ছোট ফ্ল্যাটের দাম প্রায় ৪০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
  • আবাসন ঋণের সুদের হার ১৪ থেকে ১৬ শতাংশে উন্নীত হওয়ায় সাধারণ চাকরিজীবীদের মাসিক কিস্তি পরিশোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
  • এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বাংলাদেশে সাশ্রয়ী ও জলবায়ু-সহনশীল আবাসন অর্থায়নের জন্য ১০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করেছে যা পিকেএসএফের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে।

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

ঢাকায় ৬০ হাজার টাকা মাসিক আয়ের একটি পরিবারের বাসা ভাড়াতেই চলে যায় ২৫ হাজার টাকা। এর সঙ্গে সন্তানদের পড়াশোনা, খাবার ও চিকিৎসার ব্যয় মেটানোর পর মাসের শেষ সপ্তাহে হাতে কোনো অর্থ থাকে না। নিজের একটি ফ্ল্যাট কেনার স্বপ্ন থাকলেও ৪০ লাখ টাকার একটি ছোট ফ্ল্যাটের জন্য ১০-১২ লাখ টাকা ডাউন পেমেন্ট জোগাড় করা এবং চড়া সুদে ব্যাংকঋণের কিস্তি দেওয়া নিম্ন-মধ্যবিত্তের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে ভাড়া দিয়ে থাকলেও স্বস্তি মিলছে না, আবার ঋণ নিয়ে ঘর করার পথও বন্ধ হয়ে আসছে।

বিশ্ব বসতি দিবসের প্রাক্কালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘের হিসাবে বিশ্বজুড়ে ৩০০ কোটির বেশি মানুষ পর্যাপ্ত আবাসন থেকে বঞ্চিত এবং ১১০ কোটির বেশি মানুষ বস্তিতে বসবাস করছে। বাংলাদেশের জন্য এই সমস্যা আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। ইউএন-হ্যাবিট্যাটের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের নগর এলাকায় ২০৩০ সালের মধ্যে আবাসন ঘাটতি ৮৫ লাখ ইউনিটে গিয়ে ঠেকবে। এছাড়া ২০৩৫ সালের মধ্যে নগর জনসংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ার পূর্বাভাস এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঢাকা ও বড় শহরগুলোতে মানুষের অভিবাসন চাপ আরও তীব্রতর করছে।

জেসিএক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইকবাল হোসেন চৌধুরী জানান, মধ্যম আয়ের ক্রেতারা সাধারণত ৭০ শতাংশ ব্যাংকঋণ ও ৩০ শতাংশ নিজস্ব অর্থে ফ্ল্যাট কিনতেন। কিন্তু সুদের হার ১৪ থেকে ১৬ শতাংশে পৌঁছানোয় সেই হিসাব আর মিলছে না। অন্যদিকে, আয়ের ৩০ শতাংশ আবাসন ব্যয় সহনীয় ধরা হলেও ঢাকার অনেক ভাড়াটিয়াকে আয় থেকে ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত শুধু বাড়িভাড়া দিতে হচ্ছে, যার ফলে তাদের জীবনযাত্রায় মারাত্মক টানাপড়েন তৈরি হচ্ছে।

এই বহুমুখী সংকট মোকাবিলায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ১০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করেছে, যা পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ও জামানতবিহীনভাবে নিম্ন-মধ্যবিত্তদের দেওয়া হবে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু এই অর্থায়ন যথেষ্ট নয়; ব্যাংকঋণের শর্ত আরও সহজ করতে হবে এবং বস্তিবাসী ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য পানি, বিদ্যুৎ ও পয়োনিষ্কাশন সুবিধাসহ সমন্বিত আবাসন নিশ্চিত করতে হবে।

সম্পাদকীয় নীতি ও তথ্য যাচাই

বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।

অফিসিয়াল অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন

সর্বশেষ খবর ও তাৎক্ষণিক ব্রেকিং পুশ নোটিফিকেশন

প্রতিদিনের নির্ভরযোগ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সবার আগে পড়তে ইনস্টল করুন বাংলা নিউজ ২৪-এর অফিশিয়াল মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। নির্ভুল খবর, তাৎক্ষণিক ব্রেকিং আপডেট ও সাবলীল পাঠ-অভিজ্ঞতা।

GET IT ON
Google Play
গুগল প্লে স্টোরে ক্লোজড বেটা ও আর্লি অ্যাক্সেস লাইভ