ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলে আঘাত হেনেছে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। উপকূল অতিক্রম করার সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্কতা জারি করেছে এবং বাংলাদেশের চার সমুদ্রবন্দরেও স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এর প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রমকালে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসুর’ প্রভাবে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত রেকর্ড করা হতে পারে।
- ঝড়টির সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে বাংলাদেশের প্রধান চার সমুদ্রবন্দরে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
- ঘূর্ণিঝড়টির নামকরণ করেছে ভারত, যেখানে ‘মুরাসু’ শব্দের সুনির্দিষ্ট অর্থ ও তাৎপর্য রয়েছে আঞ্চলিক আবহাওয়ার প্রেক্ষাপটে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ তার নির্ধারিত সময়ের আগেই শক্তি সঞ্চয় করে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে এবং এর অগ্রভাগ ইতোমধ্যে আঘাত হেনেছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, উপকূল অতিক্রম করার সময় এই ঝড়ের তীব্রতা ও বাতাসের গতিবেগ মারাত্মক রূপ ধারণ করতে পারে, যা ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (IMD) এবং আঞ্চলিক পূর্বাভাস কেন্দ্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিনে সাগরে পর্যাপ্ত উষ্ণতা ও অনুকূল পরিবেশ পাওয়ার কারণে সিস্টেমটি দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়। ভারতের পক্ষ থেকে এই ঝড়ের নাম দেওয়া হয়েছে ‘মুরাসু’। অন্ধ্র প্রদেশ ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চলে ইতোমধ্যে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং নিম্নাঞ্চল থেকে লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।
ঘূর্ণিঝড়টির গতিপ্রকৃতি ও সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরও গভীর নজর রাখছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলাগুলোতে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকাসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সমুদ্রবন্দরগুলোকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে।
এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষিকাত, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় মাছ ধরার ট্রলার ও নৌকাগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। আঞ্চলিক আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।