শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রাক্কালে কলকাতার স্বর্ণ বাজারে সোনার দামে উল্লেখযোগ্য ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। স্বর্ণ শিল্প বাঁচাও কমিটির ২ অক্টোবর ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, একদিনের ব্যবধানে প্রতি গ্রাম ফাইন গোল্ডে ৯৯ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনায় ৯০ টাকা পর্যন্ত দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এর বিপরীতে রুপোর দাম কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- স্বর্ণ শিল্প বাঁচাও কমিটির ২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের সকালের রেট অনুযায়ী, ৯৯৫ ফাইন গোল্ডের দাম প্রতি গ্রাম ১৪,৮৪৫ টাকায় উন্নীত হয়েছে, যা আগের দিন ছিল ১৪,৭৪৬ টাকা।
- ২২ ক্যারেট (৯১৬) সোনার প্রতি গ্রাম বিক্রির দর ১৪,১০০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট সোনার দর প্রতি গ্রাম ১১,৫৮০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
- সোনার দাম বাড়লেও ৯৯৯ বিশুদ্ধতার সিলভার বার প্রতি কেজি ২,২৪,০৫৬ টাকায় নেমে এসেছে, যা ১ অক্টোবরের তুলনায় কেজিতে ৩১২ টাকা কম।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
শারদীয় দুর্গোৎসবের ঠিক আগে কলকাতার বুলিয়ন বাজারে ফের বড় ধরনের দামের পরিবর্তন দেখা গেল। স্বর্ণ শিল্প বাঁচাও কমিটির প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে শহরের বাজারে সব ধরনের সোনার দামই উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ১ অক্টোবরের তুলনামূলক মূল্যের তুলনায় এই বৃদ্ধিতে সাধারণ মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের পকেটে বাড়তি টান পড়তে শুরু করেছে, বিশেষ করে উৎসবের মৌসুমে যখন গহনা কেনার চাহিদা থাকে তুঙ্গে।
নতুন মূল্যতালিকা অনুসারে, ৯৯৫ ফাইন গোল্ডের দাম প্রতি গ্রাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪,৮৪৫ টাকা, যা আগের দিন ছিল ১৪,৭৪৬ টাকা—অর্থাৎ একদিনেই গ্রামে ৯৯ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, সর্বাধিক প্রচলিত ২২ ক্যারেট বা ৯১৬ হলমার্ক সোনার প্রতি গ্রামের বিক্রয়মূল্য বেড়ে হয়েছে ১৪,১০০ টাকা, যা ১ তারিখে ছিল ১৪,০১০ টাকা। এছাড়া, ২২ ক্যারেট সোনার ক্রয়ের হারও বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি গ্রাম ১৩,৫০৮ টাকা। গহনা তৈরির জন্য ব্যবহৃত ১৮ ক্যারেট (৭৫০) সোনার দাম প্রতি গ্রামে ৮০ টাকা বেড়ে ১১,৫৮০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে।
সোনার বাজারে এই চড়া ভাবের বিপরীতে রুপোর ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর মিলেছে। এদিন ৯৯৯ বিশুদ্ধতার সিলভার বার প্রতি কেজি ২,২৪,০৫৬ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা আগের দিন ছিল ২,২৪,৩৬৮ টাকা। অর্থাৎ, একদিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি রুপোর দামে ৩১২ টাকা হ্রাস রেকর্ড করা হয়েছে। তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই দামের সঙ্গে ৩ শতাংশ জিএসটি, মেকিং চার্জ এবং জিউলার্স ভেদে অতিরিক্ত মজুরি যুক্ত হওয়ায় চূড়ান্ত ক্রয়মূল্য আরও কিছুটা বেশি হতে পারে।
আসন্ন পুজো ও বিয়ের মরসুমকে সামনে রেখে সোনার এই ঊর্ধ্বমুখী দাম গহনা শিল্প ও খুচরা বিক্রেতাদের ব্যবসায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। এক দিকে উৎসবের আবহে সোনা কেনার ঐতিহ্যগত ঝোঁক বজায় থাকলেও, চড়া দামের কারণে অনেকে ছোট বা হালকা ওজনের গহনার দিকে ঝুঁকছেন। অর্থনীতিবিদদের ধারণা, আন্তর্জাতিক bullion বাজারের অস্থিরতা এবং স্থানীয় চাহিদার যোগসূত্রের কারণে এই মূল্যস্ফীতি আগামী দিনেও বজায় থাকতে পারে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।