দেশে হামের প্রকোপ ও উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১২৫৪ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১৪১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিএসএস-এর তথ্য অনুযায়ী, পর্যাপ্ত টিকাদান ও জনসচেতনতার অভাবে পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে নতুন করে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভর্তি হয়েছেন ১৪১৭ জন নতুন রোগী।
- চলতি বছর দেশজুড়ে হামে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৫৪ জনে, যা স্বাস্থ্য খাতের জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয়।
- রোগটির বিস্তার রোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ টিকাদান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর মিছিল অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ১৪১৭ জন হামে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই রোগের প্রাদুর্ভাব হঠাৎ করে বৃদ্ধি পাওয়ায় চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে রোগীর চাপ ব্যাপকহারে বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে কোনো ধরনের শৈথিল্য বা ফাঁকফোকর থাকার কারণেই হামের এই আকস্মিক প্রকোপ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে টিকাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ হওয়ায় আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত আইসোলেশন ও চিকিৎসাসেবার আওতায় না আনলে ফুসফুসের সংক্রমণ বা নিউমোনিয়ার মতো মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে, যা অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুর কারণ হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে দেশের সব সরকারি হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন কার্যালয়কে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে হামের প্রাদুর্ভাব কবলিত এলাকাগুলোতে দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার এবং ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল বিতরণ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, শিশুদের শরীরে লালচে ফুসকুড়ি বা উচ্চ জ্বর দেখা মাত্রই নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অভিভাবকদের প্রতি কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন গড়ে না তুললে এই মহামারী রূপ নেওয়া সংক্রমণ রোধ করা সম্ভব নয়। দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিটি শিশু যাতে দুই ডোজ এমআর (মেজলস-রুবেলা) টিকা নিশ্চিত করে, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা। অন্যথায় চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপের পাশাপাশি শিশু মৃত্যুর হার আরও বাড়তে পারে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।