গত ৩০ অক্টোবর হরমুজ প্রণালীতে পানামার পতাকাবাহী বাণিজ্যিক ট্যাঙ্কার 'এমটি লুইস ১'-এ লিম্পেট মাইন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। জাহাজে ২৭ জন ভারতীয় নাবিক থাকলেও কেন্দ্রীয় জাহাজ চলাচল মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল নিশ্চিত করেছেন যে ইঞ্জিন রুমে আগুন লাগলেও সকল নাবিক নিরাপদে আছেন। মার্কিন-ইরান উত্তেজনার মধ্যে এই প্রথম লিম্পেট মাইন ব্যবহারের ঘটনায় বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- গত ৩০ অক্টোবর হরমুজ প্রণালীতে পানামার পতাকাবাহী 'এমটি লুইস ১' ট্যাঙ্কারে লিম্পেট মাইন হামলা চালানো হয়, যেখানে ২৭ জন ভারতীয় নাবিক কর্মরত ছিলেন।
- কেন্দ্রীয় জাহাজ চলাচল মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল নিশ্চিত করেছেন যে বিস্ফোরণে জাহাজের ইঞ্জিন রুমে আগুন লাগলেও কোনো ভারতীয় নাবিক হতাহত হননি।
- রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন-ইরান সংঘাত শুরুর পর এই প্রথম কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে লিম্পেট মাইন লাগিয়ে হামলার ঘটনা ঘটল।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালীতে নতুন করে নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়েছে। গত ৩০ অক্টোবর পানামার পতাকা বাহী বাণিজ্যিক ট্যাঙ্কার 'এমটি লুইস ১'-এর ওপর লিম্পেট মাইন দিয়ে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে প্রকাশ, মার্কিন-ইরান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে হরমুজ জলপথে এই প্রথম কোনো জলযানে চুম্বক বা বিশেষ প্রযুক্তির লিম্পেট মাইন লাগিয়ে সরাসরি বিস্ফোরণ ঘটানো হলো। হামলার সময় ওই ট্যাঙ্কারটিতে মোট ২৭ জন ভারতীয় নাবিক উপস্থিত ছিলেন, যা ভারতের জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, একটি ছোট নৌযান দ্রুত গতিতে এসে চলন্ত বাণিজ্যিক জাহাজের গায়ে লিম্পেট মাইনটি লাগিয়ে দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এরপর আকস্মিক বিস্ফোরণে ট্যাঙ্কারটির ইঞ্জিন রুমে আগুন ধরে যায়। লিম্পেট মাইন হলো এমন এক ধরনের শক্তিশালী বিস্ফোরক, যা জাহাজের খোলের সঙ্গে আটকে দূর থেকে বা নির্দিষ্ট সময়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জলযানের ইঞ্জিন বা নিচের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য ব্যবহার করা হয়। এর আগেও হরমুজে বিভিন্ন জলযানে হামলার চেষ্টা হলেও সফলভাবে লিম্পেট মাইন ব্যবহারের এমন ঘটনা এই প্রথম নথিভুক্ত হলো।
ভারতের কেন্দ্রীয় জাহাজ চলাচল মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল দ্রুত পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে জানান যে, বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে এবং জাহাজে থাকা ২৭ জন ভারতীয় নাবিকই সম্পূর্ণ নিরাপদে রয়েছেন। তবে এই হামলার নেপথ্যে সুনির্দিষ্টভাবে কোন গোষ্ঠী বা রাষ্ট্র জড়িত, তা এখনও আন্তর্জাতিক তদন্তকারী দলগুলোর কাছে স্পষ্ট নয়। জলপথে চলাচলকারী অন্যান্য দেশের ট্যাঙ্কারগুলোর জন্য এই ঘটনা প্রাণ হাতে নিয়ে পথ চলার মতো আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছে।
হরমুজ প্রণালী বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান জ্বালানি পরিবহণ পথ হওয়ায় এই হামলার সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক প্রভাব রয়েছে। এই জলপথ দিয়েই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করা হয়। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বাণিজ্যিক জাহাজে এ ধরনের অভিনব ও ধ্বংসাত্মক হামলা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন এবং পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থায় নতুন করে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা ও সংকট ডেকে আনতে পারে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।