নির্দিষ্ট নিরাপত্তা হুমকির মুখে যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে প্রায় এক ডজন বি-ওয়ান বোমারু বিমান যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নিয়েছে পেন্টাগন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিমান সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত ২৭ সেপ্টেম্বর ঘাঁটির কাছে তিনটি সন্দেহজনক যানবাহন শনাক্ত ও পরবর্তীতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ছয় ব্যক্তির গ্রেফতারের ঘটনার পর এই অতিরিক্ত সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে, নির্দিষ্ট কিছু নিরাপত্তার হুমকির কারণে যুক্তরাজ্যের গ্লুচেস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে প্রায় এক ডজন বি-ওয়ান বোমারু বিমান আমেরিকায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
- ২৭ সেপ্টেম্বর বিমানঘাঁটির কাছে তিনটি সন্দেহজনক যানবাহন শনাক্ত হওয়ার পর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মোট ছয় ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়, যাদের পরবর্তীতে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়।
- মার্কিন ও ব্রিটিশ গোত্রের সূত্রে ইরানের সম্ভাব্য অন্তর্ঘাত বা সাবোটাজ প্রচেষ্টার আশঙ্কার কথা উঠে এলেও, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও একে স্বাভাবিক সামরিক পুনর্বিন্যাস হিসেবে অভিহিত করতে চেয়েছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
নির্দিষ্ট কিছু নিরাপত্তার হুমকির কারণে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে নিজেদের বোমারু বিমানগুলো সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগন গত রবিবার নিশ্চিত করেছে যে, এই ঘাঁটিতে থাকা প্রায় এক ডজন বি-ওয়ান বোমারু বিমান আমেরিকায় তাদের নিজ ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নেব্রাস্কার উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, যুক্তরাষ্ট্র একটি নির্দিষ্ট হুমকি সম্পর্কে জানত, যা তাদের এই বিমানগুলো সরিয়ে নিতে তৎপর করেছে। হোয়াইট হাউসের বাইরে ট্রাম্প বলেন, এ বিমানগুলো দুর্ঘটনাক্রমে উড়ে যায়নি, বরং সুনির্দিষ্ট হুমকির মুখে শত্রুকে পাকড়াও ও সুরক্ষার অংশ হিসেবে এগুলোকে অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
গ্লুচেস্টারশায়ারের কটসওল্ডসে অবস্থিত আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিটি বর্তমানে সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ ইউনিটের তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিমানঘাঁটির কাছে তিনটি 'সন্দেহজনক যানবাহন' সম্পর্কে পুলিশকে সতর্ক করা হয়েছিল। ওই ঘটনার পর সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে প্রাথমিকভাবে পাঁচ ব্যক্তিকে এবং পরবর্তীতে একজন ব্রিটিশ-ইরানি নাগরিকসহ মোট ছয়জনকে গ্রেফতার করা হলেও তারা পরে জামিনে মুক্তি পান। প্রথম পাঁচ ব্যক্তির মুক্তির পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর সমালোচনা করেছিলেন এবং মার্কিন কর্মকর্তারা এর পেছনে ইরানের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মহল ঘাঁটিটি নিরাপদ বলে দাবি করলেও, ওয়াশিংটনের সূত্রগুলো বিবিসিকে জানিয়েছে যে, ইরানের সঙ্গে শত্রুতা পুনরায় শুরু হলে সংবেদনশীল ও ব্যয়বহুল বিমানগুলোতে অন্তর্ঘাত বা সাবোটাজ প্রচেষ্টা রোধ করতেই এই পদক্ষেপ। হোয়াইট হাউসের এক ঘনিষ্ঠ সূত্র গত বছর জুনে রাশিয়ান ঘাঁটিতে ইউক্রেনের গোপন ড্রোন হামলার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জানায়, দূর থেকেও শত্রু বাহিনী এমন হামলা চালাতে পারে। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও এই সিদ্ধান্তকে সরাসরি ওই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত না করে সামরিক সরঞ্জাম ও ইউনিট স্থানান্তরকে একটি রুটিন কার্যক্রম হিসেবেও তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।
ওয়েলফোর্ড গ্রামের কাছে অবস্থিত আরএএফ ফেয়ারফোর্ড দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি অগ্রবর্তী পরিচালন ঘাঁটি (ফরোয়ার্ড অপারেটিং লোকেশন) হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিরক্ষামূলক অভিযানের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই ঘাঁটি থেকে বি-ওয়ান এবং বি-৫২ বোমারু বিমান পরিচালনা করে আসছে। এদিকে তেহরান এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে। এই কৌশলগত বিমান অপসারণের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার প্রভাব এখন সরাসরি ইউরোপীয় মিত্রদের নিরাপত্তাব্যবস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।