আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ও ডিবিসি নিউজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরী এবং সাংবাদিক রাজীব ঘোষকে ডিবি হেফাজতে নিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। মহাখালীতে ডিবিসি কার্যালয়ের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, পোশাক খাতের অস্থিরতার মধ্যে গণমাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি ও চ্যানেলটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ইকবাল সোবহান চৌধুরী ২০১৩ সালের জুলাই মাসে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে ফেনী থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
- ডিবিসি নিউজের ফেসবুক পেজের তথ্য অনুযায়ী, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের মদদে গণমাধ্যমে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি এবং ডিবিসি নিউজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে গোয়েন্দা পুলিশ এই অভিযান পরিচালনা করে।
- ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র আখতার হোসেনের ভাষ্যমতে, একটি 'অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি' এড়াতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে, যদিও ডিবিসি নিউজের কর্মীরা অফিসের ভেতরে কোনো বিশৃঙ্খলার কথা অস্বীকার করেছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ও ডিবিসি নিউজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরী এবং সাংবাদিক রাজীব ঘোষকে ডিবি হেফাজতে নিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। মহাখালীতে ডিবিসি নিউজের কার্যালয়ের সামনে থেকে তাদের আটক করে মিন্টু রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পুলিশের দাবি, পোশাক খাতের চলমান অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে গণমাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি এবং ডিবিসি নিউজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ইকবাল সোবহান চৌধুরী দীর্ঘ সময় বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশের সভাপতি ছিলেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ডিবিসি নিউজ প্রতিষ্ঠা করেন। সরকার পতনের পর প্রতিষ্ঠানটিতে তার নিয়ন্ত্রণ শিথিল হয়ে পড়েছিল। এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তে গঠিত টাস্কফোর্স তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। এবার ডিবিসি নিউজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগটি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আখতার হোসেন জানিয়েছেন, একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়েছে। তবে ডিবিসি নিউজের অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর মুক্তাদীর অনিক জানিয়েছেন, তারা বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত অবগত নন এবং জুলাই বিপ্লবের সময়কার কোনো মামলার সাথে এর সংশ্লিষ্টতা আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কর্মীদের ভাষ্যমতে, অফিসের ভেতরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির অস্তিত্ব তারা লক্ষ্য করেননি।
এই ঘটনাটি দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গণমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ ও মালিকানা নিয়ে যে অস্থিরতা চলছে, এই ঘটনা তারই একটি অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইকবাল সোবহান চৌধুরীর মতো প্রভাবশালী সাংবাদিক নেতার আটক হওয়া গণমাধ্যম ও রাজনীতির মধ্যকার জটিল সম্পর্কের নতুন সমীকরণ সামনে নিয়ে এসেছে, যা ভবিষ্যতে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও ব্যবস্থাপনার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।