বলিউড অভিনেতা আমির খানের ভাগ্নে ও মার্কিন নাগরিক ইমরান খানকে আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে এফআরআরও। গত ১০ অক্টোবর মুম্বইয়ের অগাস্ট ক্রান্তি ময়দানে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় অভিবাসন আইনের ৭ ও ২৯ ধারা অনুযায়ী এই পদক্ষেপ করা হয়। এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে বম্বে হাইকোর্টে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁর আইনজীবী।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- আমেরিকার নাগরিক এবং ওভারসিজ সিটিজেন অফ ইন্ডিয়া (OCI) কার্ডধারী অভিনেতা ইমরান খানকে আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (FRRO)।
- গত ১০ অক্টোবর মুম্বইয়ের অগাস্ট ক্রান্তি ময়দানে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে এই নোটিস জারি করা হয়।
- অভিনেতার আইনজীবী জুলফিকার মেমন অভিবাসন আইনের (Immigration and Foreigners Act, 2025) ৭ ও ২৯ ধারার এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বম্বে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করতে চলেছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বলিউড অভিনেতা আমির খানের ভাগ্নে তথা মার্কিন নাগরিক ইমরান খান আইনি জটিলতায় পড়েছেন। ভারতীয় নাগরিক না হয়েও রাজনৈতিক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অভিযোগে তাঁকে আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (FRRO)। আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে তাঁকে দেশত্যাগের এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যার বিরুদ্ধে বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অভিনেতা। তাঁর আইনি লড়াই পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন আইনজীবী জুলফিকার মেমন।
গত ১০ অক্টোবর মুম্বইয়ের ঐতিহাসিক অগাস্ট ক্রান্তি ময়দানে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন ইমরান খান। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে তিনি উপস্থিত ছিলেন। তাঁর সঙ্গে ওই বিক্ষোভে অংশ নেন লেখাও ওয়াশিংটন এবং জ়েন মেরি খানও। এই ঘটনার পরই বিজেপি নেতা কিরীট সোমাইয়া পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন যে, মার্কিন নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও ইমরান খান দেশের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আইনি নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই মুম্বই পুলিশ তদন্ত করে বিষয়টি FRRO-র দপ্তরে পাঠায়।
ইমরান খানের বিরুদ্ধে Immigration and Foreigners Act, 2025-এর ৭ এবং ২৯ নম্বর ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে। ৭ নম্বর ধারায় ভারতে বিদেশিদের অবস্থান ও চলাফেরা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা রয়েছে এবং ২৯ নম্বর ধারায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বিদেশিকে বহিষ্কারের বিধান রয়েছে। ওওসিআই (OCI) কার্ডধারী একজন বিদেশি নাগরিক দেশের রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশ নিতে পারেন কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তীব্র আইনি বিতর্ক। এদিকে, সমাজবাদী পার্টির মহারাষ্ট্র শাখার প্রধান আবু আজমি এই কঠোর পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন যে জন্মভূমির প্রতি মানুষের টান থাকে এবং কেবল প্রতিবাদের কারণে দেশ ছাড়ার নির্দেশ অতি কঠোর।
এই হাই-প্রোফাইল মামলার আইনি লড়াই এখন গড়াচ্ছে বম্বে হাইকোর্টে। ওওসিআই কার্ডধারীদের অধিকার এবং ভারতের অভিবাসন আইনের পরিধি নিয়ে আদালতের রায় বলিউড ও রাজনৈতিক মহলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ২৮ অক্টোবরের মধ্যে আদালতের কোনো স্থগিতাদেশ আসে কি না, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে সকলের।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।