ইউনেস্কোর নাম ও লোগো অপব্যবহার করে দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকা আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। 'মাস আর্ট' নামক সংস্থার মাধ্যমে কলকাতার ২৪টি পুজো মণ্ডপে দর্শনার্থীদের কাছে চার হাজার টাকা পর্যন্ত মূল্যে পাস বিক্রি এবং টেন্ডার দুর্নীতির মাধ্যমে তাঁর অ্যাকাউন্টে ১ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা স্থানান্তরের চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ইউনেস্কোর স্বীকৃতিকে পুঁজি করে 'মাস আর্ট' সংস্থার মাধ্যমে কলকাতার ২৪টি নির্বাচিত পুজো মণ্ডপের পাস চড়া দামে বিক্রি করা হতো, যার মধ্যে প্লাটিনাম ফ্যামিলি কার্ডের দাম ছিল ৪,০০০ টাকা এবং কাপল কার্ডের দাম ৩,৫০০ টাকা।
- তদন্তে প্রাপ্ত ব্যাংক নথির বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, তৎকালীন তথ্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে টেন্ডার দুর্নীতির মাধ্যমে ১ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা জমা হয়েছে।
- গত ৮ জুন বউবাজার থানায় জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, 'থার্ড লাইন ক্রিয়েশন', 'জিডি ক্রিয়েশন' ও 'রূপকার' নামক তিনটি সংস্থাকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে টেন্ডার পাইয়ে দিয়েছিলেন ইন্দ্রনীল সেন, যেগুলোর সঙ্গে 'মাস আর্ট' সংস্থার যোগ রয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির নাম ভাঙিয়ে দুর্গাপুজোকে সামনে রেখে অভিনব জালিয়াতি ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই নেতার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে একটি চক্র গড়ে তুলে এই অপকর্ম চালানো হচ্ছিল।
তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে যে, 'মাস আর্ট' নামক একটি সংস্থার প্রধান মুখ ছিলেন ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী মধুছন্দা সেন। এই সংস্থার মাধ্যমেই কলকাতার ২৪টি দুর্গাপুজো কমিটিকে বাছাই করে প্রিভিউ শো-র নামে বিশেষ পাসের ব্যবসা ফেঁদে বসা হয়েছিল। মহালয়া থেকে চতুর্থী পর্যন্ত সাধারণ দর্শকদের মণ্ডপে প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করে কেবল পাসধারীদের জন্য তা উন্মুক্ত রাখা হতো। প্ল্যাটিনাম ফ্যামিলি কার্ডের জন্য ৪,০০০ টাকা, কাপল কার্ডের জন্য ৩,৫০০ টাকা এবং সিঙ্গেল কার্ডের জন্য ২,৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হতো। এছাড়া গোল্ড ও সিলভার ক্যাটাগরিতেও বিভিন্ন মূল্যের পাস বিক্রি করা হতো।
শুধু পাসের টিকিট বিক্রিই নয়, এর পাশাপাশি বড় ধরনের টেন্ডার দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের গত ৮ জুন বউবাজার থানায় দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে পুলিশ জানিয়েছে, ইন্দ্রনীল সেন তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে 'থার্ড লাইন ক্রিয়েশন', 'জিডি ক্রিয়েশন' এবং 'রূপকার' নামক তিনটি সংস্থাকে বিভিন্ন সরকারি টেন্ডার পাইয়ে দিয়েছিলেন। ব্যাংকের নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, এই দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে অন্তত ১ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা সরাসরি প্রাক্তন মন্ত্রীর ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে।
সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও পুজো কমিটির মতো পবিত্র বিষয়কে ব্যবসার হাতিয়ার বানিয়ে এ ধরনের বড় অংকের আর্থিক জালিয়াতি জনমনে গভীর প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। ইউনেস্কোর মতো মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংস্থার লোগো ও নাম অপব্যবহারের ফলে দেশের সাংস্কৃতিক সুনামও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থাগুলো এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত অন্য চক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করতে এবং সামগ্রিক আর্থিক লেনদেনের গভীরতর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।