মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়লাভের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে নতুন করে সামরিক হামলার পরিকল্পনা করছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। আগামী ৯ নভেম্বর অমাবস্যার রাতে এই আক্রমণ চালানো হতে পারে বলে জল্পনা চলছে। এদিকে তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, কোনো হামলা হলে ইউরোপের মার্কিন লক্ষ্যবস্তু ও ভৌগোলিক সীমানার বাইরেও কড়া জবাব দেওয়া হবে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ৯ নভেম্বর অমাবস্যার রাতে ইরানে নতুন করে সামরিক বিমান হামলা চালানো হতে পারে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় গণমাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে।
- ইরানকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের হুমকি দিয়ে ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে, নতুন কোনো আগ্রাসন হলে দেশটির ঘুরে দাঁড়াতে প্রায় ২৫ বছর সময় লাগবে।
- তেহরান কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানিয়েছে, মার্কিন বা পশ্চিমা কোনো আক্রমণ হলে তা কেবল মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং ইউরোপের মার্কিন সম্পদ ও সীমানার বাইরেও এর দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
মার্কিন রাজনীতি ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সদ্য নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। বিশেষ করে আগামী ৯ নভেম্বর অমাবস্যার অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে এই আকস্মিক বিমান হামলা চালানো হতে পারে বলে গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন। ট্রাম্পের এই সম্ভাব্য আক্রমণ পরিকল্পনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন এক সংঘাতের মেঘ ঘনীভূত করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের পূর্ববর্তী নীতি এবং তেহরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এই বৈরিতা চরমে পৌঁছৈছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে ইরানকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করে বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি পুনরায় দেশটিতে পূর্ণমাত্রায় হামলা চালায়, তবে ইরানের অর্থনীতি ও অবকাঠামো পুনর্গঠন করতে অন্তত ২৫ বছর সময় লেগে যাবে। মার্কিন এই হুমকির পর থেকেই তেহরান নড়েচড়ে বসেছে এবং সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে।
ইরানি নীতিনির্ধারক ও সামরিক নেতৃত্ব মার্কিন এই হুমকির মুখে পিছপা না হয়ে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ইরানের ভূখণ্ডে যদি কোনো ধরনের আগ্রাসন চালানো হয়, তবে তার জবাব কেবল মধ্যপ্রাচ্যেই সীমিত থাকবে না। ইউরোপে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং বৈশ্বিক পরিসরে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো কৌশলগত সম্পদে আঘাত হানতে প্রস্তুত রয়েছে ইরানি বাহিনী। আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে এই পাল্টাপাল্টি হুমকির ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে।
এই সম্ভাব্য সংঘাত আন্তর্জাতিক অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তার ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। তেলের বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ব বাণিজ্যে এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বড় ধরনের যুদ্ধ এড়াতে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।