ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে ইরানে নতুন করে সামরিক হামলার আশঙ্কা তীব্র হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চলা বোমা হামলা, অবরোধ ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির অর্থনীতি ও জনজীবন বিপর্যস্ত। তেহরানসহ বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ৯ কোটি মানুষ চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক নিয়ে সম্ভাব্য নতুন আক্রমণের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা এবং কঠোর অবরোধের কারণে ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধ রয়েছে এবং নাগরিকদের আয় ও জীবনযাত্রার মান ব্যাপকভাবে কমে গেছে।
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি স্থাপনাসহ বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু ও বেসামরিক অবকাঠামোয় বড় ধরনের হামলার হুমকি দিয়েছেন এবং সামরিক বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
- ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও বিরোধী দলীয় নেতারা—যাদের মধ্যে আইজেনকোট ও নাফতালি বেনেটও রয়েছেন—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস এবং শাসনব্যবস্থার পতনের লক্ষ্যে হামলাকে সমর্থন জানিয়েছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন এবং রাজনৈতিক পালাবদলের প্রাক্কালে ইরানে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকেই দেশটির সাধারণ মানুষ বোমা হামলা, কঠোর অবরোধ ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হয়ে আসছে। যদিও জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার পর কিছু সময়ের জন্য হামলার তীব্রতা কমেছিল, তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে সংঘাত শুরুর শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইসরায়েলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণী ভোট এবং আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন এই উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর চূড়ান্ত আঘাত হানার হুমকি দিয়ে বলেছেন, দেশটিতে ‘একটি সভ্যতার মৃত্যু’ ঘটতে পারে এবং এর মানচিত্র বদলে যেতে পারে। মার্কিন সামরিক বাহিনী নির্দেশ পাওয়ার সাথে সাথেই ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু ও বেসামরিক অবকাঠামোয় বড় ধরনের আক্রমণ চালাতে প্রস্তুত রয়েছে বলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এছাড়া, গত জুলাই মাস থেকে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলোতে চলমান নৌ অবরোধের কারণে দেশটির তেল রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে সাধারণ ইরানিরা আরও বেশি দারিদ্র্যের মুখে পড়েছেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।
ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনেও ইরানবিরোধী কঠোর অবস্থানের ক্ষেত্রে ব্যাপক ঐকমত্য রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর পাশাপাশি বিরোধী শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যেমন আইজেনকোট, নাফতালি বেনেট, ইয়ার লাপিদ ও ইয়ার গোলান ইরানে সামরিক হামলাকে জোরালো সমর্থন দিয়ে আসছেন। তাদের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত দেশের বাইরে সরিয়ে নেওয়া, পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ ভেঙে দেওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে তেহরান-সমর্থিত ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ নির্মূল করা। যদিও নেতানিয়াহুর সামরিক পদক্ষেপের পদ্ধতি নিয়ে বিরোধী নেতাদের কিছু ভিন্নমত রয়েছে, তবুও ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটানোর প্রশ্নে সবাই এক প্ল্যাটফর্মে অবস্থান করছেন।
এই চলমান ভূরাজনৈতিক সংকটের মাঝে ইরানের সাধারণ নাগরিকেরা এক গভীর মানসিক আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তেহরানের বাসিন্দারা আকাশ যুদ্ধবিমানের শব্দ শোনার আশঙ্কায় স্থানীয় মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে বন্ধু ও স্বজনদের নিয়ে সতর্কতামূলক দল গঠন করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে চলা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, মুদ্রাস্ফীতি এবং সরকারের দমনপীড়নের কারণে সৃষ্ট মানবতাবিরোধী পরিস্থিতির জেরে বহু সাধারণ মানুষ আজ চরম হতাশাগ্রস্ত। দেশের প্রায় ৯ কোটি মানুষ এখন উৎকণ্ঠার সাথে আকাশের দিকে তাকিয়ে পরবর্তী সম্ভাব্য ধ্বংসাত্মক হামলার পরিণতি দেখার অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।