টাঙ্গাইলের মেধাবী শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেলেও শোকে স্তব্ধ তার পরিবার। গত ১৬ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অপহরণের পর তাকে হত্যা করে লাশ নীলফামারীতে গুম করা হয়। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত আবদুল্লাহ আল মামুনকে ৫ অক্টোবর গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির মামলায় ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় খুনিরা।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের কৃষক খাদেমুল ইসলামের ১৭ বছর বয়সী ছেলে রাকিবুল ইসলাম ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন।
- গত ১৬ সেপ্টেম্বর পূর্বপরিচিত আবদুল্লাহ আল মামুন (২৫) হোয়াটসঅ্যাপে কল করে রাকিবুলকে শেওড়াপাড়া মেট্রোরেল স্টেশন থেকে শুক্রাবাদের বাসায় ডেকে নিয়ে হত্যা করেন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া ভিডিও তৈরি করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন।
- কাফরুল থানা পুলিশ গত ৫ অক্টোবর শুক্রাবাদ থেকে মূল অভিযুক্ত মামুনকে গ্রেপ্তার করে এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৬ অক্টোবর নীলফামারীর ডিমলার একটি সুপারিবাগান থেকে কার্টনবন্দী মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের দাদির আটা গ্রামের কৃষক খাদেমুল ইসলামের বাড়িতে এখন শোকের মাতম। ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন ১৭ বছর বয়সী রাকিবুল ইসলাম। আনন্দ উদ্যাপনের কথা থাকলেও দিনটি এসেছে কেবল কান্না আর আক্ষেপ নিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিতে ঢাকায় এসে শেওড়াপাড়ার একটি মেসে অবস্থান করছিলেন তিনি। গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে পূর্বপরিচিত আবদুল্লাহ আল মামুন তাকে কৌশলে ডেকে নিয়ে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার বানান।
পুলিশের তদন্ত ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন বিকেলে আবদুল্লাহ আল মামুন হোয়াটসঅ্যাপে কল করে রাকিবুলকে শেওড়াপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনের সামনে ডেকে নেন। সেখান থেকে তাকে শুক্রাবাদের একটি বাসায় নিয়ে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে কার্টনে ভরে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় নিয়ে একটি সুপারিবাগানের ভেতরে মাটিচাপা দেওয়া হয়। নৃশংসতার এখানেই শেষ নয়; কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাকিবুলকে জীবিত দেখানোর ভুয়া ভিডিও তৈরি করে তার পরিবারের কাছে পাঠানো হয়। এই ভিডিও দেখিয়ে মুক্তিপণ হিসেবে ১৫ লাখ টাকা দাবি করা হয় এবং ছেলের জীবন বাঁচাতে পরিবার চার লাখ টাকা পরিশোধও করে।
ভাইয়ের নিখোঁজের ঘটনায় বড় ভাই জহিরুল ইসলাম ঢাকায় এসে কাফরুল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ওই জিডির সূত্র ধরে ছায়াতদন্ত শুরু করে পুলিশ প্রযুক্তিগত সহায়তায় চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য ভেদ করে। গত ৫ অক্টোবর রাজধানীর শুক্রাবাদ এলাকা থেকে আবদুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তার স্বীকারোক্তি ও দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৬ অক্টোবর নীলফামারীর ডিমলার নির্দিষ্ট সুপারিবাগান থেকে কার্টনবন্দী অবস্থায় রাকিবুলের গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
শোকার্ত পিতা কৃষক খাদেমুল ইসলাম তার পরিবারের একমাত্র ভরসা ও সম্ভাবনাময় সন্তান হারানোর ব্যথায় ভেঙে পড়েছেন। সংসারের অভাব অনটন দূর করতে এবং ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় ছেলেকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করছিলেন তিনি। এখন এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। এ ধরনের সাইবার প্রতারণা ও এআই অপব্যবহারের মাধ্যমে অপরাধ সংঘটনের ঘটনা সমাজ ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার জন্য নতুন এক সতর্কবার্তা হয়ে এসেছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।