আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নভেম্বর মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। টানা দুই মাস ধরে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের বিদ্যমান খুচরা মূল্য বহাল রাখা হয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানির দর স্থিতিশীল থাকায় এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- নভেম্বর মাসে ডিজেল ও কেরোসিনের লিটার প্রতি খুচরা মূল্য ১০৫ টাকা ৫০ পয়সা এবং অকটেনের মূল্য ১২৬ টাকা ও পেট্রোলের মূল্য ১২২ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
- বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাসে সর্বশেষ মূল্য সমন্বয়ের পর টানা দুই মাস জ্বালানি তেলের দাম একই পর্যায়ে রাখা হলো।
- আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যের ওঠানামা এবং ডলারের বিনিময় হারের স্থিতিশীলতাকে বিবেচনায় নিয়ে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা দেশের পরিবহন ও কৃষি খাতে স্বস্তি বজায় রাখবে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নভেম্বর মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। গত সেপ্টেম্বর মাসে সর্বশেষ মূল্য সমন্বয়ের পর টানা দ্বিতীয় মাসের মতো ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের খুচরা মূল্য একই রাখা হয়েছে। বর্তমানে ডিজেল ও কেরোসিন প্রতি লিটার ১০৫ টাকা ৫০ পয়সা, অকটেন ১২৬ টাকা এবং পেট্রোল ১২২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যের স্থিতিশীলতা এবং ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হারের বর্তমান পরিস্থিতি প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। গত কয়েক মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের বড় ধরনের কোনো অস্থিরতা না থাকায় সরকার অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম বাড়ানোর প্রয়োজন বোধ করেনি। এর ফলে পরিবহন খরচ ও নিত্যপণ্যের বাজারে বাড়তি চাপের আশঙ্কা আপাতত কাটল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা দেশের কৃষি উৎপাদন ও শিল্প খাতের জন্য ইতিবাচক। বিশেষ করে সেচ মৌসুম ও পণ্য পরিবহনে ডিজেলের ব্যবহার ব্যাপক হওয়ায় দামের স্থিতিশীলতা উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করবে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববাজারের পরিস্থিতির ওপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে পরবর্তী মাসে পুনরায় মূল্য সমন্বয় করা হবে।
জ্বালানি তেলের এই মূল্য স্থিতিশীলতা দেশের সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সাধারণ ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি বজায় রাখতে সরকার নিয়মিত বিরতিতে আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের বাজারে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতিশীলতা বজায় থাকবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।