রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে দেশের প্রথম অনগ্রিড সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে এ পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ যুক্ত হয়েছে। যার বাণিজ্যিক বাজারমূল্য প্রায় ৭৪ কোটি টাকা। ২০১৯ সালে প্রায় ১শ ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই প্ল্যান্টটি ২২ একর পরিত্যক্ত জমিতে স্থাপিত হয়। বর্তমানে উৎপাদন বাড়াতে নতুন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ২০১৯ সালে প্রায় ১শ ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন দেশের প্রথম অনগ্রিড সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মিত হয়।
- কেন্দ্রটি থেকে এ পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট সোলার বিদ্যুৎ যুক্ত হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৭৪ কোটি টাকা।
- উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে বর্তমানে অতিরিক্ত ১ মেগাওয়াট এবং ৭ দশমিক ৬ মেগাওয়াটের নতুন আরেকটি পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজ পুরোদমে চলছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
নবায়নযোগ্য জ্বালানির অপার সম্ভাবনার এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে গড়ে উঠেছে দেশের প্রথম অনগ্রিড সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র। সূর্যের আলো থেকে প্রতিদিন উৎপাদিত এই পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ নিয়মিতভাবে যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে। দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকা পাহাড়ের পরিত্যক্ত জমিতে স্থাপিত এই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে, যার বর্তমান বাণিজ্যিক বাজারমূল্য প্রায় ৭৪ কোটি টাকা। কাপ্তাই কর্ণফুলী জল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
১৯৬২ সালে কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালুর পর বাঁধের পাশে প্রায় ২২ একর জমির মধ্যে ১৯ একর জায়গায় ২০১৯ সালে এই ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। এতে প্রায় ১শ ১১ কোটি টাকা ব্যয় হয়। বর্তমানে এই অব্যবহৃত পরিত্যক্ত জমিতে সারি সারি সৌর প্যানেল স্থাপন করে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদন করা হচ্ছে। প্রকল্পটির সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, এটি অত্যন্ত লাভজনক একটি উদ্যোগ, যার রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ও জনবল উভয়ই কম এবং আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলেও উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয় না।
কাপ্তাই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের এই অভাবনীয় সাফল্যকে কাজে লাগিয়ে এর উৎপাদন সক্ষমতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে মূল কেন্দ্রের সঙ্গে অতিরিক্ত ১ মেগাওয়াট এবং নতুন করে ৭ দশমিক ৬ মেগাওয়াটের আরও একটি পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এর পাশাপাশি ব্রিকফিল্ড এলাকায় আরেকটি ৭ দশমিক ৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্ল্যান্ট করার প্রক্রিয়া ও টেন্ডার কার্যক্রমও সম্পন্ন হয়েছে। সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে তেল, গ্যাস কিংবা কয়লার মতো প্রচলিত জ্বালানির প্রয়োজন না থাকায় এটি জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করে পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এই প্রকল্পের সাফল্য দেশের সামগ্রিক জ্বালানি খাতের আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে। তিন পার্বত্য অঞ্চলের সুবিশাল অব্যবহৃত পাহাড়ি জমিগুলোকে যদি এভাবে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়, তবে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার একটি বড় অংশের জোগান দেওয়া যাবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কাপ্তাইয়ের এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের অন্যান্য অনাবাদি জমিতেও পরিকল্পিত বিনিয়োগ ও সরকারি সহায়তায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির পরিধি আরও সম্প্রসারণ করা উচিত।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।