বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা ও মারধরের হুমকির অভিযোগে গত ২ অক্টোবর গ্রেপ্তার হওয়া মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান জামিনে কারামুক্ত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের হওয়ার পর তাকে কারা ফটকে সংবর্ধনা জানান জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। এর আগে গত ১ নভেম্বর হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে জামিন দেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- গত ১ অক্টোবর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটের লাগেজ নিয়ে বিরোধ ও ক্ষোভের জেরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল, ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়া ও মারধরের হুমকি দেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান।
- গত ২ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ এবং পরদিন আদালত তাকে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
- বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ১ নভেম্বর তাকে জামিন প্রদানের পর আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও নির্বাহী পরিচালককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে কারাবন্দী মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেছেন। আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় তাকে অভ্যর্থনা জানাতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ কারা ফটকে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত রোববার (১ নভেম্বর) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে জামিন প্রদান করেন।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ১ অক্টোবর। ওই দিন সৌদি আরবের মদিনা থেকে ঢাকাগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটের যাত্রীরা লাগেজ পেতে দীর্ঘ সময় বিলম্ব হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। এছাড়া তাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়া ও মারধরের হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি তৎকালীন বিমানমন্ত্রীকে নিয়েও অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এই ঘটনার পর গত ২ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে তাকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গ্রেপ্তার করে। পরদিন শনিবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও রিমান্ড শেষে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর তিনি কারাগার থেকে মুক্ত হলেন।
উল্লেখ্য, রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘ সময় বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকলেও মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে ২০২২ সালে পঞ্চমবারের মতো দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। তার কারামুক্তি ও রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।