লাইভ
বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম
প্লে-স্টোর অ্যাপ

কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে সিএনজিচালকের জবানবন্দি

প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক | তারিখ: 11 অক্টোবর 2026, 07:55 সকাল | পড়ার সময়: 1 মিনিট | 87 বার পঠিত
কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে সিএনজিচালকের জবানবন্দি
প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ

কুমিল্লার দেবীদ্বারে নবম শ্রেণির স্কুলছাত্রী তাজমিন আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন সিএনজি চালক মো. সুমন মিয়া। গত রবিবার কক্সবাজার থেকে ফেরার পথে সুমনের কথামতো বিষ প্রয়োগে তাকে হত্যা করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):

  • আসামি মো. সুমন মিয়া কুমিল্লার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় ১৬ পৃষ্ঠার জবানবন্দিতে স্কুলছাত্রী তাজমিন আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার পুরো ঘটনা স্বীকার করেছেন।
  • নিহত তাজমিন আক্তার দেবীদ্বার উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল এবং সুমনের সঙ্গে পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে সে কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়েছিল।
  • তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. শাহ কামাল জানান, কক্সবাজার থেকে ফেরার পথে সুমনের সহযোগিতায় ওই কিশোরীকে পরিকল্পিতভাবে বিষাক্ত পদার্থ খাইয়ে হত্যা করা হয়।

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

কুমিল্লার দেবীদ্বারে নবম শ্রেণির স্কুলছাত্রী তাজমিন আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সিএনজি চালক মো. সুমন মিয়া আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রবিবার কুমিল্লার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দীর্ঘ জবানবন্দিতে তিনি এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন। পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন আগে সুমনের সঙ্গে ওই কিশোরী কক্সবাজার ভ্রমণে যায় এবং সেখানে একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান করে। পরে কুমিল্লায় ফেরার পথে সুমনের পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে হত্যা করা হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ, তাজমিন আক্তার দেবীদ্বারের স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। মো. সুমন মিয়া সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালানোর সুবাদে তার সঙ্গে ওই কিশোরীর পরিচয় হয়। এই পরিচয়ের সূত্র ধরে গত সপ্তাহে ‘রাজুর স্ত্রী’ পরিচয়ে কক্সবাজারের একটি হোটেলে তারা কক্ষ ভাড়া নেন, যেখানে বয়স ১৮ বছর বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছিল। কক্সবাজার থেকে ফেরার সময় উভয়ের মধ্যে বিরোধ বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সুমন তাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে এবং পথিমধ্যে জোরপূর্বক বিষ প্রয়োগ করে।

ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দেবীদ্বার থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. শাহ কামাল জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং প্রযুক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে সুমন মিয়াকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অপরাধ স্বীকার করেন এবং আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ ও ধর্ষণের অন্যান্য আলামত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন। নারী ও শিশু নির্যাতন এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ ও অপরাধ চক্রের ফাঁদে পড়ার ঘটনা রোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন মানবাধিকার কর্মীরা।

সম্পাদকীয় নীতি ও তথ্য যাচাই

বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।

অফিসিয়াল অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন

সর্বশেষ খবর ও তাৎক্ষণিক ব্রেকিং পুশ নোটিফিকেশন

প্রতিদিনের নির্ভরযোগ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সবার আগে পড়তে ইনস্টল করুন বাংলা নিউজ ২৪-এর অফিশিয়াল মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। নির্ভুল খবর, তাৎক্ষণিক ব্রেকিং আপডেট ও সাবলীল পাঠ-অভিজ্ঞতা।

GET IT ON
Google Play
গুগল প্লে স্টোরে ক্লোজড বেটা ও আর্লি অ্যাক্সেস লাইভ