ভারতের কলকাতায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তির দাবিতে বাংলাদেশ উপহাইকমিশন ঘেরাওয়ের চেষ্টা ও বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। সন্ন্যাসীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই মিছিলে পুলিশি বাধার মুখে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কলকাতার পার্ক সার্কাস এলাকায় উপহাইকমিশনের চারপাশে অতিরিক্ত পুলিশ ও ব্যারিকেড মোতায়েন করা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- হিন্দু সংঘর্ষ সমিতির ব্যানারে কলকাতার পার্ক সার্কাস এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপহাইকমিশন অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল ও ঘেরাও কর্মসূচি পালিত হয়।
- মিছিলটি উপহাইকমিশনের দিকে অগ্রসর হলে ভারতীয় পুলিশি বাধার মুখে পড়ে এবং ব্যারিকেড ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টার সময় তীব্র ধস্তাধস্তি হয়।
- ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের দ্রুত মুক্তি ও বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সুরক্ষার দাবিতে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং স্মারকাকস্মার দেওয়ার চেষ্টা করেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের সামনে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তির দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ ও ঘেরাও কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত এই মিছিলে সাধু-সন্ন্যাসীসহ শত শত বিক্ষোভকারী অংশ নেন। মিছিলটি উপহাইকমিশনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশি বাধার মুখে পড়ে, যা পরবর্তীতে চরম উত্তেজনায় রূপ নেয়।
এর আগে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই কলকাতার বিভিন্ন স্থানে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারের প্রতিবাদে নানা কর্মসূচি পালিত হয়ে আসছে। আজকের এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিক্ষোভকারীরা পার্ক সার্কাস সাতমাথা মোড় থেকে উপহাইকমিশন অভিমুখে যাত্রা করেন। পুলিশের পূর্বনির্ধারিত ব্যারিকেড ও কঠোর নিরাপত্তার কারণে মিছিলটি উপহাইকমিশনের মূল ফটকের কাছাকাছি পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, যার ফলে বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত বাহিনী, র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স এবং ওয়াটার ক্যানন প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং বিক্ষোভকারীদের সাথে দফায় দফায় আলোচনা করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও এলাকায় থমথমে ভাব বজায় থাকে।
এই ঘটনার ফলে কলকাতার পার্ক সার্কাস ও এর আশেপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যা সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটায়। কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা জোরদার করার অংশ হিসেবে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে উপহাইকমিশন চত্বরে নিরাপত্তা আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই ধরনের ঘটনা অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।