কলকাতা পুরসভা নির্বাচনে জোট জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে ২০৯টি ওয়ার্ডেই একলা চলোর নীতি ঘোষণা করেছে বিজেপি। শনিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার ও নেতা শমীক ভট্টাচার্য জানান, ভোটের দিন ঘোষণার তিন থেকে চার দিনের মধ্যেই প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। দলের দুর্দিনে পাশে থাকা কর্মী ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রার্থী নির্বাচনে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- কলকাতা পুরসভার মোট ২০৯টি ওয়ার্ডে পদ্মফুল প্রতীকে একাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার ও শমীক ভট্টাচার্য।
- প্রার্থী পদের জন্য আগামী ২৬ অক্টোবর বিকেল পাঁচটার মধ্যে ড্রপ বক্সে আবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার তিন থেকে চার দিনের মধ্যে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।
- বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী ওয়ার্ডগুলোর তুলনায় বেশি আসনে জয়লাভের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং পুরনো বিশ্বস্ত কর্মীদের পাশাপাশি সমাজে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জন্যও দলের দরজা খোলা রাখা হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
আসন্ন কলকাতা পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক সমীকরণ যখন পরিবর্তনশীল, ঠিক তখনই সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে এককভাবে লড়ার স্পষ্ট বার্তা দিল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। শনিবার আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক বৈঠকে দলের দুই হেভিওয়েট নেতা—কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এবং শমীক ভট্টাচার্য একসুরে ঘোষণা করেন যে, কোনো জোটের পথে না হেঁটে পুরসভার মোট ২০৯টি ওয়ার্ডেই নিজস্ব প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে দল। তাদের এই ঘোষণায় পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, স্থানীয় স্তরে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি পরীক্ষা করতে এবং এককভাবে ভিত্তি মজবুত করতেই দল এবার বেশি জোর দিচ্ছে।
সাংবাদিক বৈঠকে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ার রূপরেখা স্পষ্ট করে সুকান্ত মজুমদার জানান, প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জেতার দক্ষতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। ২৬ অক্টোবর বিকেল পাঁচটার মধ্যে আগ্রহী প্রার্থীদের ড্রপ বক্সে আবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, দুর্দিনে যারা দলের পাশে ছিলেন এবং যাদের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি পরিচ্ছন্ন, তাদেরই মূলত প্রাধান্য দেওয়া হবে। এছাড়া সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা যদি রাজনীতিতে অংশ নিতে চান, তবে তাদের জন্যও দলের দরজা খোলা রয়েছে। বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হবে।
জোট প্রসঙ্গে সুকান্ত মজুমদার স্পষ্ট ভাষায় জানান, অন্য কোনো দলের সঙ্গে জোট বাঁধার চেয়ে সংগঠনের নিজস্ব শক্তিতে ভর করেই নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চায় বিজেপি। বিশেষ করে বিধানসভা নির্বাচনে যে সমস্ত ওয়ার্ডে দল ভালো ফল করেছিল বা জয়লাভ করেছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যক আসনে জয় ছিনিয়ে নেওয়াটাই তাদের মূল লক্ষ্য। অতীতে বিধানসভা ভোটের আগে যারা দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাদের অবদানের কথা স্মরণ করে সুকান্ত বলেন যে রাজনীতিতে অসম্ভব বলে কিছু না থাকলেও পুরনো ও পরীক্ষিত কর্মীদেরই প্রথম অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কলকাতা পুরভোটে বিজেপির এই এককভাবে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত স্থানীয় নেতৃত্বের মনোবল বাড়াতে এবং তৃণমূল স্তরে ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতি চাঙ্গা করতে সাহায্য করবে। ভোটের দিন ঘোষণার মাত্র তিন থেকে চার দিনের মধ্যে প্রার্থী তালিকা প্রকাশের ঘোষণাও দলের দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতার পরিচায়ক। এই কৌশল কতটা সফল হয় এবং ভোটাররা এটিকে কীভাবে গ্রহণ করেন, তা এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা, তবে পুরভোটের ময়দানে যে ত্রিমুখী বা বহুমুখী লড়াইয়ের আবহ তৈরি হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।