গত ৪ অক্টোবর দেশের জনপ্রিয় রাইড-শেয়ারিং ও পণ্য সরবরাহ সেবা প্রতিষ্ঠান ‘পাঠাও’-এর সার্ভার সাইবার হামলার শিকার হয়। হ্যাকার চক্র এক কোটি ৯০ লাখ গ্রাহকের ১৩৩ জিবি সংবেদনশীল তথ্য চুরির দাবি করে চার লাখ মার্কিন ডলার ক্রিপ্টোকারেন্সি মুক্তিপণ দাবি করে। পাঠাও কর্তৃপক্ষ আংশিক তথ্য ফাঁসের কথা স্বীকার করলেও নিরাপত্তা জোরদারে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কাজ করছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- সাইবার অপরাধী চক্রের দাবি অনুযায়ী, ৫৯১টি টেবিলজুড়ে মোট ১ কোটি ৯০ লাখ ৬৩ হাজার ৯১৮টি অ্যাকাউন্টের ১৩৩ জিবি তথ্য চুরি হয়েছে, যার মধ্যে এনআইডি, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও জিপিএস ডেটা রয়েছে।
- হ্যাক হওয়া তথ্যের বিনিময়ে চার লাখ মার্কিন ডলার সমমূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে বলে ডেইলি ডার্ক ওয়েব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
- পাঠাওয়ের জনসংযোগ ব্যবস্থাপক মো. ফয়েজ জানিয়েছেন, গত ৪ অক্টোবর সাইবার নিরাপত্তা ইস্যু শনাক্ত হওয়ার পর প্ল্যাটফর্মের অখণ্ডতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেমগুলো অবিলম্বে অফলাইনে নেওয়া হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বাংলাদেশের জনপ্রিয় রাইড-শেয়ারিং ও পণ্য সরবরাহ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘পাঠাও’-এর সার্ভার থেকে এক কোটি ৯০ লাখ গ্রাহকের ১৩৩ গিগাবাইট সংবেদনশীল তথ্য চুরির দাবি করেছে একটি সাইবার অপরাধী চক্র। গত ৪ অক্টোবর এই সাইবার হামলার ঘটনা ঘটলেও বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে গত ৭ অক্টোবর সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক প্ল্যাটফর্ম ‘ডেইলি ডার্ক ওয়েব’-এর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এর একটি পোস্টের মাধ্যমে। হ্যাকাররা আন্ডারগ্রাউন্ড ফোরামে পোস্ট করা নোটিশে দাবি করে, ৫৯১টি টেবিলজুড়ে থাকা এসব ডেটার মধ্যে ব্যবহারকারীদের নাম, ইমেল, ফোন নম্বর, পাসওয়ার্ড, জিপিএস ডেটা, ফেসবুক আইডি ও অ্যাক্সেস টোকেন রয়েছে।
হ্যাক হওয়া তথ্যের পরিসর অত্যন্ত বিস্তৃত বলে দাবি করা হয়েছে। ওই নোটিশ অনুযায়ী, এক কোটি ৯০ লাখ ৫৯ হাজার এনআইডি নম্বর, এক কোটি ৯০ লাখ ৪৬ হাজার ড্রাইভিং লাইসেন্স এন্ট্রি, ৫৭ লাখ বাসার ঠিকানা এবং ৫৪৯ জন কর্মীর এইচআর রেকর্ড বেহাত হয়েছে। এছাড়া ১৭ হাজার ৯৪৩টি মার্চেন্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও রাউটিং রেকর্ডও তাদের দখলে গেছে বলে দাবি করা হয়। এই বিপুল পরিমাণ তথ্যের বিনিময়ে চার লাখ মার্কিন ডলার সমমূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। তবে হ্যাকারদের দাবির সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনাটি সামনে আসার পর পাঠাও কর্তৃপক্ষ তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সাইবার নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। প্রতিষ্ঠানটির জনসংযোগ শাখার ব্যবস্থাপক মো. ফয়েজ জানিয়েছেন, ৪ অক্টোবর সেবা বিঘ্নিত হওয়ার পর প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেমগুলো অফলাইনে নেওয়া হয়। সাইবার নিরাপত্তার এই ইস্যু সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা জোরদার করতে বিশেষায়িত বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ করা হয়েছে।
সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, পাঠাওয়ের মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে এই ধরনের সংবেদনশীল তথ্য বেহাত হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির মনে করেন, যদি হ্যাকারদের দাবি সত্যি হয়, তবে এসব তথ্য ব্যবহার করে পরিচয় চুরি, ব্যাংক জালিয়াতি, ফিশিং এবং ব্ল্যাকমেইলের মতো অপরাধ সংঘটিত হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের নিজেদের অ্যাকাউন্ট সুরক্ষায় পিন, পাসওয়ার্ড বা ওটিপি কারো সাথে শেয়ার না করার এবং যেকোনো অযাচিত বার্তা বা লিংকের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে পাঠাও কর্তৃপক্ষ।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।