হিমবাহের হ্রদ ফেটে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় ভুটানে কৃত্রিম বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জলস্তর কমানো হয়েছে। এই পদক্ষেপে পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের পাঁচ্ল জেলায় সাময়িক স্বস্তি মিললেও ডুয়ার্স অঞ্চলে জারি রয়েছে রেড অ্যালার্ট। সিকিম ও ভুটান সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে যাতে দ্রুত উদ্ধারকাজ চালানো যায়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ভুটানের হিমবাহের হ্রদের অতিরিক্ত জলস্তর কমাতে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে, যা পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের সীমান্ত অঞ্চলে বন্যার ঝুঁকি কমিয়েছে।
- হ্রদ ভাঙার আশঙ্কায় পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের মোট ৫টি জেলায় বিশেষ রেড অ্যালার্ট ও সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে সংশ্লিষ্ট রাজ্য প্রশাসন।
- ডুয়ার্স অঞ্চলে বন্যার নতুন আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় বনমন্ত্রী ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে জরুরি সতর্কবার্তা ও মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদার করেছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ভুটানের পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থিত বিপজ্জনক হিমবাহের হ্রদ ফেটে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় দেশটির কর্তৃপক্ষ কৃত্রিম বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জলস্তর নামিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে। এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপে তাৎক্ষণিকভাবে পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে বড় ধরণের বিপদ এড়ানো সম্ভব হলেও সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে এখনো চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত কয়েকদিন ধরে পাহাড়ি ঢলে নদীর জলস্তর অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ভুটান সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলগুলোতে এই জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
এর আগে থেকেই ২০২১ সালের বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ভবিষ্যদ্বাণী ও ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষায় ভুটানের এই হ্রদগুলোর ভাঙনঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি এবং আসামের সংলগ্ন জেলাগুলোসহ মোট পাঁচটি জেলায় জারি করা হয়েছে রেড অ্যালার্ট। ডুয়ার্স এলাকার নদীগুলোর পানির গতিপ্রকৃতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন আবহাওয়া ও সেচ দপ্তরের বিশেষজ্ঞরা।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে পশ্চিমবঙ্গের বনমন্ত্রী ও স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যেই দুর্গত এলাকার মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছেন। একই সঙ্গে ভারত ও ভুটান যৌথভাবে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও নদী অববাহিকার জলাধারগুলোর গেট পরিচালনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পাহাড়ি ঢলের এই আকস্মিক বিপদ মোকাবিলায় ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।
এই ঘটনার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবে উত্তরবঙ্গের চা বাগান ও কৃষিজমিতে সাময়িক ক্ষতির আশঙ্কা থাকলেও সময়মতো বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জলস্তর কমানোর ফলে বড় ধরণের বিপর্যয় এড়ানো গেছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমবাহ গলে এই ধরনের আকস্মিক হ্রদ বিস্ফোরণের ঝুঁকি আগামীতে আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন পরিবেশ বিজ্ঞানীরা, যার জন্য স্থায়ী ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।