জাপানের অর্থায়নে কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়িতে নির্মিত হচ্ছে দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর ও ফ্ল্যাগশিপ বিগ-বি প্রকল্প। ২০১৪ সালে শুরু হওয়া এই উদ্যোগে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চ্যানেলকে বাণিজ্যিক বন্দরে রূপান্তর করা হয়। জাইকার প্রাক-সমীক্ষায় এ অঞ্চলে প্রায় ৬০-৬৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রত্যাশিত হলেও, আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি ও ভূরাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা আলোচনা।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- জাপানের বিগ-বি (Bay of Bengal Industrial Growth Initiative) প্রকল্পের আওতায় মাতারবাড়িতে গভীর সমুদ্রবন্দর ও শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলতে আগামী পাঁচ বছরে ছয় বিলিয়ন ডলারেরও বেশি সরকারি ও বেসরকারি জাপানি বিনিয়োগ আসার কথা রয়েছে।
- ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শুরু হওয়া কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১৪ কিলোমিটার লম্বা ও ২৫০ মিটার চওড়া নৌ-চ্যানেলটিকে পরবর্তীতে জাইকার পরামর্শে বাণিজ্যিক গভীর সমুদ্রবন্দরে রূপান্তরিত করা হয়।
- প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, মাতারবাড়িকে একটি বৈশ্বিক রফতানি হাব ও পরিকল্পিত নগর হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও আফ্রিকা পর্যন্ত বাণিজ্যের পরিধি বাড়াবে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়িকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর ও জাপানের ফ্ল্যাগশিপ 'বিগ-বি' (Bay of Bengal Industrial Growth Initiative) প্রকল্প। গত মাসের শেষ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের টোকিও সফরে দুই দেশের যৌথ ঘোষণায় এই উদ্যোগ নতুন স্তরে উন্নীত হয়। মূলত বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারকে ঘিরে এই অর্থনৈতিক বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে জাপান।
প্রকল্পটির পেছনের ইতিহাস অনুযায়ী, ২০১৪ সালে মাতারবাড়িতে একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা নেয় বাংলাদেশ ও জাপান। ২০১৭ সালে জাইকার প্রাক-সমীক্ষায় প্রস্তাব করা হয় যে, বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা পরিবহনের জন্য খননকৃত ১৪ কিলোমিটার লম্বা ও ২৫০ মিটার চওড়া নৌ-চ্যানেলটিকে সামান্য পরিবর্তন করে বাণিজ্যিক বন্দর হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। এই যুগপৎ ব্যবহারের ফলে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি নির্মাণ ব্যয় বহুগুণ সাশ্রয় হয় এবং প্রকল্পটি গভীর সমুদ্রবন্দরে উন্নীত হয়।
বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী মাতারবাড়িতে শুধু গভীর সমুদ্রবন্দরই নয়, বরং কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র, এলএনজি টার্মিনাল, শিল্পাঞ্চল এবং পরিকল্পিত নগরী গড়ে তোলা হচ্ছে। সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানান, বাংলাদেশকে পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও আফ্রিকার সঙ্গে যুক্ত করে একটি বৈশ্বিক রফতানি হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এসব অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া জাপানি বিনিয়োগের পথ ধরে আধুনিক প্রযুক্তি ও সাপ্লাই চেইন গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে।
তবে এই বিশাল বিনিয়োগ ও আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে কিছু প্রশ্নও উঠেছে। প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন মহলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, এর মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতকে কোনো বিশেষ ট্রানজিট বা সুবিধা দেওয়া হচ্ছে কি না। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে এটি সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক রফতানি কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। অর্থনীতিবিদ ও গবেষক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের মতে, এই প্রকল্পে প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ বিলিয়ন ডলারের মোট বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে, যার বড় একটি অংশ আসবে জাপানি বেসরকারি খাত থেকে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।