বাণিজ্য মেলার পুরনো মাঠে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তরের সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ এবং মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করার দাবিতে রাজধানীর রোকেয়া সরণি ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) সংলগ্ন সিগন্যাল মোড় অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা মাঠের অবশিষ্ট অবৈধ স্থাপনা বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলেন এবং দ্রুত দাবি বাস্তবায়নের আল্টিমেটাম দেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বাংলাদেশ সচিবালয় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বাণিজ্য মেলার মাঠে স্থানান্তরের সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আন্দোলনে নেমেছেন শেকৃবির সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
- আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা রাজধানীর ব্যস্ততম রোকেয়া সরণি ও প্রধান সিগন্যাল মোড় দীর্ঘক্ষণ অবরোধ করে রাখেন, যার ফলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
- বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বাণিজ্য মেলার মাঠে থাকা অবশিষ্ট স্থায়ী ও অস্থায়ী স্থাপনাগুলো নিজ উদ্যোগে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন এবং মাঠটি শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া চর্চার জন্য বরাদ্দের দাবি জানান।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা বাণিজ্য মেলার পুরনো মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের সরকারি প্রস্তাবের প্রতিবাদে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেছেন। মাঠটি নিজেদের খেলার মাঠ হিসেবে বহাল রাখার দাবিতে তারা রোকেয়া সরণি ও বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন প্রধান সিগন্যাল মোড় অবরুদ্ধ করেন। শিক্ষার্থীদের এই আকস্মিক সড়ক অবরোধের ফলে মিরপুর রোড ও আগারগাঁও এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ commuters চরম দুর্ভোগে পড়েন।
এর আগে গত কয়েক দিন ধরেই শাটডাউন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা করে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, ঐতিহ্যবাহী এই খেলার মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের একমাত্র অবলম্বন। এখানে সচিবালয় বা অন্য কোনো সরকারি স্থাপনা নির্মিত হলে শিক্ষার্থীরা খেলার অধিকার থেকে চিরতরে বঞ্চিত হবেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বাসের পরেও সুনির্দিষ্ট প্রজ্ঞাপন না আসায় শিক্ষার্থীরা সরাসরি মাঠে নেমে প্রতিবাদ জানান।
বিক্ষোভের একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা বাণিজ্য মেলার মাঠে থাকা অবশিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা ও প্যাভিলিয়নের অবশিষ্ট অংশ বুলডোজার ও হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে ফেলেন। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, মাঠ রক্ষা না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই লাগাতার আন্দোলন ও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতামূলক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নগর পরিকল্পনাবিদ ও শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, ঢাকা শহরের প্রাণকেন্দ্রে এমনিতেই খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থানের মারাত্মক সংকট রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংলগ্ন মাঠ রক্ষার এই আন্দোলন কেবল শিক্ষার্থীদের দাবি নয়, বরং নগরীর পরিবেশ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। দ্রুত কার্যকর আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসন না হলে আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।