মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক পরেই ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য তীব্র চাপ দিচ্ছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রভাব মোকাবেলায় এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হলেও, সংশ্লিষ্ট মহলের আশঙ্কা এতে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মধ্যবর্তী নির্বাচনের অব্যবহিত পরেই ইরানে পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালাতে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি চাপ প্রয়োগ করছেন।
- যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস না হলে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে দ্রুত মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের ইতি টানার বিকল্প চিন্তাভাবনা চলছে।
- ইরান কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানিয়েছে যে, মার্কিন বা ইসরায়েলি পাক্ষিক থেকে নতুন কোনো হামলা হলে তা গোটা অঞ্চলে যুদ্ধকে আরও দীর্ঘায়িত করবে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক পরপরই ইরানে সামরিক হামলা চালানোর জন্য প্রবল চাপ সৃষ্টি করছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও গোয়েন্দা সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, তেহরানের ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতে ওয়াশিংটনের সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ চান নেতানিয়াহু। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই কূটনৈতিক ও কৌশলগত দরকষাকষিতে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার পারদ চড়েছে।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন ও ইরানি নেতৃত্বের মধ্যে নানা ধরনের পাল্টাপাল্টি হুমকি এবং সামরিক উত্তেজনার ইতিহাস রয়েছে। ট্রাম্প সম্প্রতি এক স্বীকারোক্তিতে মন্তব্য করেছেন যে, অতীতে ইরানি শীর্ষ নেতাদের ওপর হামলা চালাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো কিছুটা বাড়াবাড়ি করে ফেলেছিল। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে তেহরানের সঙ্গে কোনো কার্যকর কূটনৈতিক চুক্তি স্বাক্ষরিত না হলে, সরাসরি সামরিক অভিযানের মাধ্যমে এই সংকটের স্থায়ী সমাপ্তি টানার কথা ভাবছেন হোয়াইট হাউসের নীতিনির্ধারকরা।
এদিকে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের এই যৌথ সামরিক প্রস্তুতির তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানের সরকারি উচ্চপর্যায় থেকে স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা তাদের মিত্ররা যদি নতুন করে কোনো আগ্রাসন চালায়, তবে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ এবং তা গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে দীর্ঘমেয়াদী সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান এই অচলাবস্থা নিরসনে কূটনৈতিক চ্যানেলের চেয়ে সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার শঙ্কা দিন দিন ঘনীভূত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাক্কালে ট্রাম্প প্রশাসনের এমন আক্রমণাত্মক বৈদেশিক নীতি বৈশ্বিক রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ লাইনে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে অর্থনৈতিক অস্থিরতার লক্ষণ দেখা দিয়েছে। যদি নেতানিয়াহুর চাপে ট্রাম্প প্রশাসন সত্যিই ইরানে সামরিক অভিযান চালায়, তবে এর সুদূরপ্রসারী ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতে হবে পুরো বিশ্বকে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।