ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও সাভারের আশুলিয়ায় পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করলে ওসিসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্পাঞ্চলে মোট ২৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসন ও মালিকপক্ষ শ্রমিকদের শান্ত থেকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- শিল্পাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় মোট ২৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে, যার মধ্যে শুধু আশুলিয়াতেই রয়েছে ৩ প্লাটুন।
- সাভারে বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়, এতে সাভার মডেল থানার ওসিসহ অন্তত ৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
- মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা শ্রমিকরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক প্রায় ৩ ঘণ্টা অবরোধ করে রাখলে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের দাবিতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও সাভারের শিল্পাঞ্চলে ব্যাপক বিক্ষোভ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকাল থেকে শ্রমিকরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করলে পুলিশ বাধা দেয়, যা পরবর্তীতে সংঘর্ষে রূপ নেয়। সাভারে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশের একটি টহল গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে, এতে সাভার মডেল থানার ওসিসহ বেশ কয়েকজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য আহত হন।
আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিজিবি সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোট ২৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে আশুলিয়া ও ধামরাই এলাকায় ৩ প্লাটুন বিজিবি টহল দিচ্ছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, বর্তমান বাজারদরের সাথে সংগতি রেখে তাদের ন্যূনতম মজুরি ২৩ হাজার টাকা করার দাবি দীর্ঘদিনের হলেও মালিকপক্ষ তা আমলে নিচ্ছে না।
সংঘর্ষের জেরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, ফলে সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। স্থানীয় প্রশাসন ও শিল্প পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। তারা জানান, মজুরি বোর্ড বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে এবং খুব শীঘ্রই একটি যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে। শ্রমিকদের উস্কানিতে পা না দিয়ে ধৈর্য ধরার এবং কর্মস্থলে ফেরার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই অস্থিরতার ফলে অনেক কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, যা দেশের তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত না করলে শিল্পাঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। সরকার ও মালিকপক্ষকে শ্রমিক প্রতিনিধিদের সাথে বসে দ্রুত সংকট নিরসনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।