মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে বুধবার বিকালে দুর্বৃত্তদের হামলায় গোলাপ হোসেন ও তাঁর ছয় বছরের শিশু কন্যা তওবা নিহত হয়েছেন। রামকৃষ্ণদী গ্রামের একটি ইটভাটার কাছে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার সকালে পরিত্যক্ত জমি থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গোলাপ মারা যান। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার রামকৃষ্ণদী গ্রামের একটি ইটভাটার কাছে গত বুধবার বিকাল ৫টার দিকে গোলাপ হোসেন ও তাঁর ছয় বছরের শিশু কন্যা তওবার ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা।
- হামলায় গুরুতর আহত গোলাপ হোসেনকে প্রথমে উদ্ধার করা হলেও পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান এবং শিশু তওবার মরদেহ একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।
- সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন জানান, শিশুটির মরদেহ সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় মর্মান্তিক এক দ্বৈত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গত বুধবার বিকাল ৫টার দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণদী গ্রামের একটি ইটভাটার কাছে পূর্বপরিকল্পিতভাবে গোলাপ হোসেন ও তাঁর ছয় বছরের শিশুকন্যা তওবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে দুর্বৃত্তরা। হামলায় ঘটনাস্থলেই শিশুটির মর্মান্তিক মৃত্যু হয় এবং পরে তার মরদেহ একটি পরিত্যক্ত জমিতে ফেলে রাখা হয়। অন্যদিকে, মারাত্মকভাবে আহত বাবা গোলাপ হোসেনকে দ্রুত উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত গোলাপ হোসেনের নিজস্ব বাড়ি রামকৃষ্ণদী গ্রামে হলেও তিনি তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে পার্শ্ববর্তী লতব্দী ইউনিয়নের দোসরপাড়া গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন। ঘটনার দিন গোলাপ হোসেন তাঁর বাবা জয়নাল মিয়ার সঙ্গে দেখা করতে রামকৃষ্ণদী এলাকার ওই ইটভাটায় গিয়েছিলেন। কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথেই এই নৃশংস হামলার শিকার হন পিতা ও কন্যা। জনবহুল ও ব্যস্ত এলাকার কাছাকাছি এমন দিনেদুপুরে জোড়া খুনের ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশ। সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, পুলিশ ইতোমধ্যে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল সম্পন্ন করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য শিশুটির মরদেহ মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে এবং এ বিষয়ে নিয়মিত মামলা দায়েরসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনে পূর্বশত্রুতা, পারিবারিক বিরোধ নাকি অন্য কোনো অপরাধমূলক উদ্দেশ্য রয়েছে, তা উদ্ঘাটনে পুলিশি তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক ধারণা, পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে দোষী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে এ ধরনের জঘন্য অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হয়।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।