ভূমি ব্যবস্থাপনায় জালিয়াতি রোধ ও স্বচ্ছতা আনতে জমির নামজারিতে বড় পরিবর্তন এনেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অন্য ওয়ারিশদের বাদ দিয়ে এককভাবে নামজারি করার সুযোগ নেই। সব ওয়ারিশের নাম একই খতিয়ানে সহ-অংশীদার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ভূমি সেবার অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করে নির্ধারিত ফি পরিশোধের মাধ্যমে ঘরে বসেই এই আবেদন করা যাবে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- অন্য ওয়ারিশদের বাদ দিয়ে এককভাবে নামজারি করার বিধান বাতিল করে সব ওয়ারিশের নাম একই খতিয়ানে সহ-অংশীদার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার নতুন নিয়ম বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
- জমির সঠিক নামজারি সম্পন্ন না করলে ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা দেওয়া যায় না এবং জমি বিক্রয় বা হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় আইনি জটিলতা ও জালিয়াতির ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
- ভূমি মন্ত্রণালয়ের সরকারি অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় নথিপত্রের স্ক্যান কপি আপলোড এবং নির্ধারিত ফি পরিশোধের মাধ্যমে ঘরে বসেই ই-নামজারির আবেদন সম্পন্ন করা সম্ভব।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ভূমি রেকর্ড ও ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ কমাতে জমির নামজারির নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। নতুন বিধান অনুযায়ী, এখন থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমিতে অন্য ওয়ারিশদের বাদ দিয়ে এককভাবে নামজারি করার কোনো সুযোগ থাকছে না। এর ফলে ভুয়া দলিল বা গোপন সমঝোতার মাধ্যমে জমি লিখে নেওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত জমির নামজারির সময় সব ওয়ারিশের নাম একই খতিয়ানে সহ-অংশীদার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। অনানুষ্ঠানিক ভাগে আলাদা খতিয়ান করা যাবে না, তবে বণ্টননামা না থাকলেও যৌথ আবেদন বাতিল হবে না। বিক্রয়সূত্রে নামজারির ক্ষেত্রে মূল দলিল কিংবা বায়নাপত্র এবং ওয়ারিশি সূত্রে আবেদনের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা থেকে প্রদত্ত সঠিক ওয়ারিশ সনদ সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ভূমি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জমির সঠিক নামজারি বা ই-মিউটেশন না থাকলে জমির বৈধ মালিকানা ও দখল নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়। এছাড়া অনলাইনে নামজারি সম্পন্ন করা না গেলে ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা পরিশোধ করা যায় না, যা পরবর্তীতে জমি বিক্রি কিংবা ব্যাংক ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করে। নতুন এই অনলাইন ব্যবস্থার ফলে সাধারণ মানুষ দালাল চক্রের হয়রানি ছাড়াই সহজে সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অংশ হিসেবে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ই-নামজারি পোর্টালের মাধ্যমে এখন নাগরিকরা ঘরে বসেই অনলাইনে আবেদন করতে পারছেন। পোর্টালের নির্দিষ্ট ছকে তথ্য পূরণের পর প্রয়োজনীয় নথিপত্র স্ক্যান করে আপলোড করতে হয় এবং নির্ধারিত ফি অনলাইনে পরিশোধ করার পর আবেদনটি চূড়ান্তভাবে জমা পড়ে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে জনগণ খতিয়ানের বর্তমান অবস্থা অনলাইনে সহজেই যাচাই করতে পারবেন এবং ভূমি খাতের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কমবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।