বলিউড অভিনেতা নানা পাটেকারের মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি তুলেছেন অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত। গত ৮ অক্টোবর ৭৫ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অভিনেতার মৃত্যুর পর মধ্যরাতে তড়িঘড়ি শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তনুশ্রীর দাবি, নানা পাটেকার হয়তো জীবিত আছেন এবং আইনি জটিলতা এড়াতে ভুয়া মৃত্যু সনদ নিয়ে সিঙ্গাপুর বা মালয়েশিয়ায় আত্মগোপন করে থাকতে পারেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- গত ৮ অক্টোবর ৭৫ বছর বয়সে নানা পাটেকারের মৃত্যুর পর পুনের দঞ্জে গ্রামে রাত ১১টা ২৮ মিনিটে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়, যা নিয়ে তনুশ্রী দত্ত গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
- তনুশ্রী দত্ত দাবি করেছেন, হিন্দু রীতি অনুযায়ী সূর্যাস্তের পর দাহকার্য সম্পন্ন না করার নিয়ম থাকলেও কেন রাতের অন্ধকারে তড়িঘড়ি শেষকৃত্য করা হলো এবং কেন কোনো স্মরণসভা আয়োজন করা হয়নি।
- ২০০৮ সালে ‘হর্ন ওকে প্লিজ’ সিনেমার শুটিংয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছিলেন তনুশ্রী, যার প্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের জুনে মুম্বাই পুলিশ নানা পাটেকারকে সব অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছিল।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকারের মৃত্যু ঘিরে রহস্যের জাল বুনেছেন অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত। গত ৮ অক্টোবর ৭৫ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অভিনেতার মৃত্যুর খবর আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হলেও, তনুশ্রী তার ইনস্টাগ্রাম লাইভে এসে এই মৃত্যুর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, এত বড় মাপের একজন অভিনেতার শেষকৃত্য কেন মধ্যরাতে তড়িঘড়ি করে সম্পন্ন করা হলো এবং কেন বলিউডের কোনো সহকর্মী বা সাংবাদিককে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ দেওয়া হলো না, তা রহস্যজনক।
ঘটনার প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, পুনের কাছে দঞ্জে গ্রামে নানা পাটেকারের নিজস্ব ফার্মহাউসে রাত ১১টা ২৮ মিনিটে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। তনুশ্রী দত্তের মতে, হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সূর্যাস্তের পর দাহকার্য সম্পন্ন করার নিয়ম নেই, যা এই পুরো প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এছাড়া, বাম্বোলিমের জিএমসি মর্গে মরদেহ রাখা হলেও, সেখান থেকে শেষকৃত্য পর্যন্ত কোনো ভিডিও বা ছবি প্রকাশ্যে না আসায় তিনি মরদেহের পরিচয় নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।
তনুশ্রী দত্তের দাবি, নানা পাটেকার হয়তো আদতে জীবিত আছেন এবং আইনি জটিলতা থেকে বাঁচতে ভুয়া ডেথ সার্টিফিকেট তৈরি করে সিঙ্গাপুর বা মালয়েশিয়ায় আত্মগোপন করে থাকতে পারেন। তিনি প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষার দাবিও তুলেছেন। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে তনুশ্রী নানা পাটেকারসহ চারজনের বিরুদ্ধে নারকো অ্যানালিসিস ও লাই-ডিটেক্টর টেস্টের আবেদন জানিয়েছিলেন, তবে ২০১৯ সালের জুনে মুম্বাই পুলিশ নানা পাটেকারকে সব অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়।
তনুশ্রীর এই বিস্ফোরক দাবি বলিউড পাড়ায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও তার দাবির স্বপক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবুও কিংবদন্তি এই অভিনেতার মৃত্যু নিয়ে এমন মন্তব্য জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। আইনি জটিলতা ও অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার প্রেক্ষাপটে তনুশ্রীর এই বক্তব্যকে অনেকেই ব্যক্তিগত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন, তবে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।