প্রাক্তন মিস ইন্ডিয়া ও অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত অভিনেতা নানা পাটেকরের প্রয়াণ প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন। এর আগে নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে 'মি টু' আন্দোলনের সময় যৌন হেনস্থার অভিযোগ এনেছিলেন তিনি। লখনউয়ের এক অনুষ্ঠানে তনুশ্রী জানান, বিগত পাঁচ বছর তার অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে কেটেছে এবং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাকে বিভিন্নভাবে চাপ ও আর্থিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- তনুশ্রী দত্ত ২০০৮ সালে একটি ছবির শুটিংয়ের সময় নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে জোড়পূর্বক যৌন হেনস্থার গুরুতর অভিযোগ এনেছিলেন।
- নানা পাটেকরের মৃত্যুর পর লখনউয়ের একটি অনুষ্ঠানে তনুশ্রী জানান যে মামলা প্রত্যাহারের জন্য তাকে অতীতে নানাভাবে চাপ ও আর্থিক অফার দেওয়া হয়েছিল।
- তনুশ্রীর দাবি, আদালতে সমস্ত প্রমাণ ও সাক্ষী থাকার সত্ত্বেও বিচারক শেষ পর্যন্ত সেই মামলা বন্ধ করে দিয়েছিলেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বলিউডের প্রবীণ অভিনেতা নানা পাটেকরের প্রয়াণের খবর প্রকাশ্যে আসার পরই নতুন করে আলোচনায় এসেছেন প্রাক্তন মিস ইন্ডিয়া ইউনিভার্স ও অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত। এর আগে নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে 'মি টু' (Me Too) আন্দোলনের সময় প্রকাশ্যেই যৌন হেনস্থার অভিযোগ এনেছিলেন তনুশ্রী। ২০০৮ সালে 'হর্ন ওকে প্লিজ' ছবির শুটিংয়ের সেটে একটি রোমান্টিক ও ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে শুটিংয়ের সময়ে নানা পাটেকর তাকে শারীরিক নিগ্রহ করেছিলেন বলে অভিযোগ করেছিলেন এই অভিনেত্রী।
এই ঘটনার পর থেকেই বলিউডে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল এবং বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছিল। নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের পথ বেছে নিয়েছিলেন তনুশ্রী। তবে আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি তাকে দীর্ঘ সামাজিক ও পেশাগত লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হয়। তনুশ্রীর দাবি অনুযায়ী, নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে মুখ খোলার পর তার জীবনের গত পাঁচটি বছর অত্যন্ত দুর্বিষহ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে কেটেছে।
সম্প্রতি লখনউতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে নানা পাটেকরের প্রয়াণ নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তনুশ্রী। সেখানে তিনি জানান, যে মানুষটি পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন, তাকে নিয়ে নতুন করে মন্তব্য করার কিছু নেই। তবে তিনি ক্ষোভের সাথে প্রকাশ করেন যে, মামলাটি তুলে নেওয়ার জন্য তাকে বারবার বিভিন্ন মহল থেকে চাপ দেওয়া হয়েছিল এবং মোটা অঙ্কের আর্থিক অফারও করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি কখনোই কারো কাছে মাথা নোয়াননি এবং নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন।
তনুশ্রী আরও অভিযোগ করেন যে, তার পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ এবং ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী থাকা সত্ত্বেও আদালতের বিচারক মামলাটি বন্ধ করে দিয়েছিলেন। বিচারব্যবস্থা ও ক্ষমতার এই অসম লড়াই তাকে সারাজীবন মানসিক আঘাত বয়ে বেড়াতে বাধ্য করেছে। তার এই মন্তব্য বিনোদন জগতে নারীর নিরাপত্তা এবং কর্মক্ষেত্রে যৌন নিপীড়নের বিচার নিয়ে পুরানো বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।