মা ইলিশ সংরক্ষণে ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে চাঁদপুরের বড় স্টেশনের মাছঘাটে প্রথম দিনেই প্রায় ১ হাজার টন ইলিশের আমদানি হয়েছে। তবে ঘাটে আসা মাছের প্রায় ৭০ শতাংশই নরম, ডিমওয়ালা ও পচা হওয়ায় হতাশ হয়েছেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা। বৈরী আবহাওয়া এবং নিষিদ্ধ সময়ে ডিম ছাড়ার কারণে মাছের এই অবস্থা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে চাঁদপুরের প্রধান মাছঘাটে প্রথম চালানেই প্রায় ১ হাজার টন ইলিশের আমদানি হয়েছে।
- ঘাটে আসা মোট ইলিশের প্রায় ৭০ ভাগ মাছই নরম, পচা এবং ডিমওয়ালা হওয়ায় ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
- মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে সরকার দেশব্যাপী সফল অভিযান পরিচালনা করে এবং প্রায় ৬১ কোটি টাকার অবৈধ জাল ও সরঞ্জাম জব্দ করে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারের নির্ধারিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা গত ৩ নভেম্বর মধ্যরাতে শেষ হওয়ার পর থেকেই চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদী এবং সাগরে জাল ফেলতে শুরু করেন জেলেরা। নিষেধাজ্ঞা ওঠার পর প্রথম দিনেই চাঁদপুরের বড় স্টেশনের মাছঘাটে প্রায় ১ হাজার টন ইলিশের আমদানি হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন পর ঘাটে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসে এবং আড়তদার ও শ্রমিকদের মধ্যে ব্যস্ততা বৃদ্ধি পায়।
তবে নদী থেকে ধরা পড়া এবং ঘাটে নিয়ে আসা এই ইলিশের মান নিয়ে বড় ধরনের হতাশা তৈরি হয়েছে। আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের ভাষ্যমতে, ঘাটে আসা মাছের প্রায় ৭০ শতাংশই নরম, পচা এবং ডিমওয়ালা। প্রজনন মৌসুমের ঠিক শেষ মুহূর্তে মাছগুলো ধরা পড়ার কারণে এবং অতিরিক্ত গরম ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সংরক্ষণের অভাবে মাছগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে পাইকারি বাজারে এসব মাছের সঠিক দাম মিলছে না।
এ বিষয়ে স্থানীয় মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির নেতৃবৃন্দ জানান, মৌসুমের শেষ সময়ে মা ইলিশের পেটে ডিম থাকায় এবং সঠিক সময়ে বরফ ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা না করায় অধিকাংশ ইলিশের মান নষ্ট হয়েছে। অনেক জেলে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার আগেই বা ঠিক শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে জাল টানায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে প্রশাসন জানিয়েছে, মা ইলিশ রক্ষায় এ বছর ৬১ কোটি টাকার অবৈধ জাল ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে, যা ইলিশের প্রজনন বৃদ্ধিতে দীর্ঘমেয়াদী ভূমিকা রাখবে।
চাঁদপুরের মাছঘাট দেশের অন্যতম বড় ইলিশের বাজার হওয়ায় এখানকার পচা ও নিম্নমানের ইলিশের প্রভাবে স্থানীয় খুচরা বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ক্রেতারা চড়া দামে ভালো মানের ইলিশ না পেয়ে হতাশ হচ্ছেন। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে গভীর সমুদ্র থেকে আরও তাজা ইলিশ ঘাটে পৌঁছালে পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং বাজারে ইলিশের সরবরাহ ও দাম স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।