নোয়াখালীর শাহজাদপুর-সুন্দলপুর গ্যাসক্ষেত্রের ৩ নম্বর কূপে নতুন স্তরে গ্যাসের সন্ধান পেয়েছে বাপেক্স। ৩ হাজার ৩৮৫ মিটার গভীরে পাওয়া এই স্তর থেকে দৈনিক ৭ থেকে ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রায় ২০ বছর মেয়াদী এই মজুত দেশের জ্বালানি সংকট নিরসনে এবং শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- নোয়াখালীর সুন্দলপুর-৩ কূপের ৩ হাজার ৩৮৫ মিটার গভীরতায় নতুন গ্যাস স্তরের সন্ধান মিলেছে, যেখান থেকে দৈনিক গড়ে ৭ থেকে ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন সম্ভব হবে।
- রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্স পরিচালিত এই অনুসন্ধান প্রকল্পে প্রাপ্ত গ্যাসের চাপ ও মজুত বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই কূপ থেকে টানা ২০ বছর গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যাবে।
- নতুন এই স্তরের গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং স্থানীয় শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল হবে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
নোয়াখালীর শাহজাদপুর-সুন্দলপুর গ্যাসক্ষেত্রের ৩ নম্বর কূপে নতুন একটি স্তরে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) পরিচালিত এই অনুসন্ধান কার্যক্রমে ৩ হাজার ৩৮৫ মিটার গভীরে গ্যাসের অস্তিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষা শেষে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, এই কূপ থেকে দৈনিক ৭ থেকে ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
সুন্দলপুর গ্যাসক্ষেত্রের এই নতুন স্তরে গ্যাসের চাপ ও মজুত অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। ভূ-তাত্ত্বিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এখান থেকে টানা ২০ বছর পর্যন্ত গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হতে পারে। এর আগে ২০১১ সালে এই গ্যাসক্ষেত্রটি আবিষ্কৃত হয়েছিল এবং বর্তমানে নতুন এই স্তরের সন্ধান দেশের জ্বালানি খাতের জন্য একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কূপটির খনন কাজ শেষে এখন ডিএসটি (Drill Stem Test) প্রক্রিয়া চলছে। গ্যাসের চাপ ও প্রবাহ স্থিতিশীল থাকলে খুব দ্রুতই প্রয়োজনীয় পাইপলাইন স্থাপনের মাধ্যমে এই গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এটি দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতে সহায়ক হবে।
বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নতুন এই কূপ থেকে প্রাপ্ত গ্যাস শিল্পাঞ্চল ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহে ভূমিকা রাখবে। এর ফলে উচ্চমূল্যের এলএনজি আমদানির ওপর চাপ কিছুটা কমবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।