বেঙ্গালুরুভিত্তিক ইলেকট্রিক টু-হুইলার প্রস্তুতকারক সংস্থা ওবেন ইলেকট্রিক চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ১,৪১৭টি বাইক বিক্রি করে বাজারে শীর্ষস্থান দখল করেছে। তাদের নতুন মডেল ‘ওবেন রর ইভো’-এর জনপ্রিয়তার ফলে এই মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। ৩.৪ কিলোওয়াট আওয়ার ক্ষমতার ব্যাটারির এই বাইকটি এক চার্জে ১৮০ কিলোমিটার পথ চলতে সক্ষম এবং এর প্রতি কিলোমিটারে খরচ মাত্র ১ টাকা।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ওবেন ইলেকট্রিক সেপ্টেম্বর মাসে ১,৪১৭টি ইলেকট্রিক বাইক বিক্রি করে বাজারে প্রথম স্থান অর্জন করেছে, যা তাদের একক মাসে সর্বোচ্চ বিক্রির রেকর্ড।
- নতুন মডেল ‘ওবেন রর ইভো’-তে ৩.৪ kWh ক্ষমতার ব্যাটারি রয়েছে, যা এক চার্জে ১৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে এবং এর সর্বোচ্চ গতি প্রতি ঘণ্টায় ১১০ কিমি।
- মাত্র ২৭ টাকার বিদ্যুৎ খরচে সম্পূর্ণ চার্জ হওয়া এই বাইকটির অপারেশনাল খরচ প্রতি কিলোমিটারে প্রায় ১ টাকা, যা বাজারে এর চাহিদা ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ইলেকট্রিক যানবাহনের ক্রমবর্ধমান বাজারে নতুন ইতিহাস গড়েছে বেঙ্গালুরুভিত্তিক স্টার্টআপ সংস্থা ওবেন ইলেকট্রিক। সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সংস্থাটি ১,৪১৭টি ইলেকট্রিক বাইক বিক্রি করেছে, যা ভারতের ইলেকট্রিক বাইক বাজারে তাদের নিরঙ্কুশ আধিপত্য প্রমাণ করে। এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে তাদের সদ্য সংযোজিত ফ্ল্যাগশিপ মডেল ‘ওবেন রর ইভো’। স্কুটারের আধিপত্যের বাজারে ইলেকট্রিক মোটরসাইকেলের এই উত্থান সমগ্র শিল্প মহলের নজর কেড়েছে।
প্রতিযোগিতা মূলক বাজারে ওবেন ইলেকট্রিক প্রায় ৪৬.২ শতাংশ বাজার দখল করে শীর্ষে অবস্থান করছে। বিক্রির পাশাপাশি উৎপাদন ক্ষেত্রেও বড় মাইলফলক ছুঁয়েছে বেঙ্গালুরুর এই প্রতিষ্ঠানটি, যেখানে তাদের কারখানায় ইতোমধ্যে ১০ হাজার ইউনিট বাইক উৎপাদনের গণ্ডি পার হয়েছে। বাজার বিশ্লেषণে দেখা গেছে, তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিভোল্ট ইন্টেলিকর্প বিক্রি করেছে ১,০২৭টি এবং তৃতীয় স্থানে থাকা আল্ট্রাভায়োলেট অটোমোটিভ বিক্রি করেছে ৫৩৬টি বাইক।
প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের দিক থেকেও ওবেন রর ইভো বেশ সমৃদ্ধ। বাইকটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ৩.৪ কিলোওয়াট আওয়ার (kWh) ক্ষমতার শক্তিশালী ব্যাটারি। সংস্থার দাবি অনুযায়ী, একবার সম্পূর্ণ চার্জ দিলে এটি সর্বোচ্চ ১৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ পাড়ি দিতে পারে। এছাড়া বাইকটি মাত্র ৩ সেকেন্ডে শূন্য থেকে ৪০ কিলোমিটার গতি তুলতে সক্ষম এবং এর সর্বোচ্চ গতি প্রতি ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার। ফাস্ট চার্জিং প্রযুক্তির সুবাদে এর ব্যাটারি শূন্য থেকে ৮০ শতাংশ হতে সময় নেয় মাত্র ৯০ মিনিট।
কম চলতি খরচের কারণে শহুরে যাতায়াতে এই বাইকটি ব্যবহারকারীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বর্তমান বিদ্যুৎমূল্যের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি ইউনিট ৮ টাকা ধরলে সম্পূর্ণ ব্যাটারি চার্জ করতে মাত্র ২৭ টাকা খরচ হয়, অর্থাৎ প্রতি কিলোমিটারে খরচ দাঁড়ায় প্রায় ১ টাকা মাত্র। পেট্রোলচালিত বাইকের আকাশচুম্বী দামের বাজারে এই সাশ্রয়ী খরচ ভবিষ্যতে দেশের ইভি শিল্পে এক বিশাল বিপ্লব ঘটাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।