আসন্ন দুর্গোৎসবে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে বৈচিত্র্যময় থিম ও সাবেকিয়ানার অপরূপ মেলবন্ধন। সন্তোষপুর লেকপল্লী ক্লাবের মণ্ডপে চীনা হরফে শিবশঙ্করের তাণ্ডবনৃত্য ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। অন্যদিকে, নিউটাউন বিসি ব্লকে কলের গান এবং আদি বালিগঞ্জ সর্বজনীনে গুহাবাসী থেকে অট্টালিকায় মানুষের উত্তরণের ইতিহাস থিম হিসেবে স্থান পেয়েছে, যা দর্শনার্থীদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- সন্তোষপুর লেকপল্লী ক্লাবের এবারের দুর্গোৎসবের থিমে মহাদেবের প্রলয়নৃত্য বা তাণ্ডব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে চীনা হরফের শৈল্পিক আবহে।
- নিউটাউন বিসি ব্লকের দুর্গাপুজো মণ্ডপসজ্জায় ঔজ্জ্বল্য ছড়াচ্ছে ঐতিহ্যবাহী 'কলের গান' এবং সাবেকিয়ানার অভিনব যুগলবন্দি।
- শতবর্ষে পদার্পণ করা আদি বালিগঞ্জ সর্বজনীন দুর্গোৎসবে গুহাবাসী মানুষের আধুনিক অট্টালিকায় উত্তরণের দীর্ঘ ইতিহাস থিম হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা সমাগত। আর এই উৎসবকে কেন্দ্র করে কলকাতার উত্তর থেকে দক্ষিণ এবং পার্শ্ববর্তী নিউটাউনের পূজামণ্ডপগুলোতে শুরু হয়েছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। এবারের পুজোয় প্রতিটি ক্লাব তাদের থিমের অভিনবত্বে দর্শকদের চমকে দিতে প্রস্তুত। বিশেষ করে প্রতিবারই থিম ভাবনায় নতুনত্ব এনে তাক লাগিয়ে দেয় যে সমস্ত পুজো কমিটি, তাদের মধ্যে সন্তোষপুর লেকপল্লী এ বছর এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। তাদের মণ্ডপসজ্জা ও থিম ভাবনায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে চীনা হরফে দেবাদিদেব মহাদেবের প্রলয়নৃত্য বা তাণ্ডবের রূপ, যা পৌরাণিক কাহিনীর সঙ্গে ভিন্ন এক শিল্পরীতির সফল প্রয়োগ।
অন্যদিকে, শহরতলির নিউটাউন বিসি ব্লকের পুজো কমিটি এবার বেছে নিয়েছে এক নস্টালজিক থিম। মণ্ডপসজ্জায় উদ্ভাসিত করা হয়েছে পুরনো দিনের ‘কলের গান’ বা গ্রামোফোনকে। থিমের সঙ্গে সাবেকিয়ানার এই অপূর্ব যুগলবন্দি ইতোমধ্যে দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে। অন্যদিকে, শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে আদি বালিগঞ্জ সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি ফুটিয়ে তুলেছে মানব সভ্যতার বিবর্তন। গুহাবাসী আদিম মানুষের জীবনযাত্রা থেকে শুরু করে আজকের আধুনিক কংক্রিটের অট্টালিকায় উত্তরণের দীর্ঘ ও সংগ্রামের ইতিহাসকে তারা মণ্ডপ ও প্রতিমাশিল্পের মাধ্যমে মূর্ত করে তুলেছে।
এই বৈচিত্র্যময় থিমগুলো কেবল নান্দনিকতার দিক থেকেই নয়, বরং এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে গভীর সামাজিক ও ঐতিহাসিক বার্তা। বোসপুকুর শীতলা মন্দির কিংবা বালিগঞ্জ সর্বজনীনের মতো ঐতিহ্যবাহী পুজো কমিটিগুলো তাদের থিমের মাধ্যমে প্রকৃতি ধ্বংসের পরিণতি বা মানব সভ্যতার বিকাশ ফুটিয়ে তুলছে, যা দর্শনার্থীদের বিনোদনের পাশাপাশি ভাবিয়ে তুলছে। পুজো উদ্যোক্তাদের মতে, নিখুঁত কারুশিল্প এবং আলোর রোশনাইয়ে এই মণ্ডপগুলো কেবল পূজার দিনগুলিতেই নয়, বরং প্রস্তুতি পর্ব থেকেই জনস্রোত তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।
শারদীয়ার এই আবহ বাঙালি সংস্কৃতি ও অর্থনীতির সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। প্রতিটি মণ্ডপের এই বিশাল আয়োজন এবং থিমভিত্তিক শিল্পকর্মের পেছনে কাজ করেছেন শত শত দক্ষ কারিগর, চিত্রশিল্পী ও আলোকচিত্রী। উৎসবের এই দিনগুলোতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় কেবল কলকাতার অর্থনীতি ও পর্যটনকেই চাঙ্গা করে না, বরং আবহমান বাংলার শিল্পসৈনিকদের সৃজনশীলতাকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যায়।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।