পরিবেশগত ছাড়পত্র ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবস্থিত সুপার পেট্রোকেমিক্যালের রিফাইনারি কারখানাটি পুনরায় চালুর তোড়জোড় শুরু হয়েছে। অতীতে বিভিন্ন অনিয়ম ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে কারখানাটির কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল পরিবেশ অধিদপ্তর। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি আইনি জটিলতা কাটিয়ে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অগোচরে পুনরায় বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর জন্য তৎপরতা চালাচ্ছে, যা স্থানীয় পরিবেশ ও জননিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- সুপার পেট্রোকেমিক্যালের রিফাইনারিটি পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই দীর্ঘ সময় ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল, যা পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
- কারখানাটির বিরুদ্ধে অতীতে অগ্নিকাণ্ড ও রাসায়নিক নিঃসরণের মতো গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটির অভিযোগ রয়েছে, যার ফলে স্থানীয় জনবসতি ও পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছিল।
- প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে উচ্চপর্যায়ের তদবির ও আইনি ফাঁকফোকর ব্যবহার করে পুনরায় বাণিজ্যিক লাইসেন্স নবায়ন ও কারখানা চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নতুন করে আবেদন ও দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবস্থিত সুপার পেট্রোকেমিক্যালের বিতর্কিত রিফাইনারি কারখানাটি পুনরায় চালুর জন্য জোর তৎপরতা শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। পরিবেশগত ছাড়পত্র ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার যথাযথ সনদ না থাকা সত্ত্বেও কারখানাটি বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তদবির চালাচ্ছে। অতীতে বিভিন্ন সময় অনিয়মের দায়ে কারখানাটির কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিলেও, অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে বারবার তা পুনরায় চালুর চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
কারখানাটির প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি মূলত অপরিশোধিত তেল ও রাসায়নিক প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজে ব্যবহৃত হয়। তবে যথাযথ বর্জ্য শোধনাগার বা ইটিপি (ETP) ব্যবস্থা না থাকায় কারখানাটি থেকে নির্গত বিষাক্ত বর্জ্য পার্শ্ববর্তী খাল ও জনবসতিতে ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। পরিবেশ অধিদপ্তরের একাধিক পরিদর্শনে কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম ঘাটতি ও আইন অমান্য করার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল, যার ভিত্তিতেই এর উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, কারখানা কর্তৃপক্ষ এখন আইনি জটিলতা নিরসনের নামে বিভিন্ন দপ্তরে দৌড়ঝাঁপ করছে। স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন ও সচেতন নাগরিকরা এই উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করছেন। তাদের মতে, যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে এবং পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া কারখানাটি চালু করা হলে তা সীতাকুণ্ডের উপকূলীয় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
এই রিফাইনারি চালুর বিষয়টি এখন স্থানীয় পর্যায়ে বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিল্পায়নের নামে পরিবেশ আইন লঙ্ঘন এবং জননিরাপত্তাকে উপেক্ষা করার প্রবণতা রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর অবস্থানে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কারখানাটি পুনরায় চালুর আগে পরিবেশ অধিদপ্তরের কঠোর মনিটরিং এবং নিরাপত্তা সনদ যাচাই করা অপরিহার্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।