কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ে যৌথ বাহিনীর অভিযানের সময় তিন ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার মানবপাচারকারীদের আস্তানায় অভিযানে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গুলিতে সেনাবাহিনীর সৈনিক তিতাস শেখ (২৭) নিহত হন। ওই ঘটনায় ৫৬ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার এবং ৬ জন মানবপাচারকারীকে আটক করা হয়েছিল। বর্তমানে পাহাড়জুড়ে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া ও লেদা ক্যাম্পের পূর্বের পাহাড়ে তল্লাশি চালিয়ে তিন ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যা নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান।
- গত বৃহস্পতিবারের সশস্ত্র মানবপাচারকারীদের আস্তানায় যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক তিতাস শেখ (২৭) বীরত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকালে নিহত হন।
- উক্ত অভিযানে যৌথ বাহিনী ৫৬ জন জিম্মিকে নিরাপদে উদ্ধার করে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করে এবং মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত ৬ জন সক্রিয় সদস্যকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করতে সক্ষম হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অভিযান চলাকালে তিন ব্যক্তির মরদেহ পড়ে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ। স্থানীয় নয়াপাড়া ও লেদা ক্যাম্পের পূর্বের পাহাড়ে এই মরদেহগুলো পাওয়ার পর থেকেই পুরো এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গত শুক্রবার বিকেলে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধারের জন্য বিশেষ উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনা করে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে একই পাহাড়ি এলাকায় সশস্ত্র মানবপাচারকারীদের গোপন আস্তানা লক্ষ্য করে যৌথ বাহিনী অভিযান পরিচালনা করলে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
উক্ত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সময় সশস্ত্র মানবপাচারকারীদের নির্মম গুলিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৭ বছর বয়সী তরুণ সৈনিক তিতাস শেখ নিহত হন। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও মানবপাচার রোধে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তার এই শাহাদাতবরণ পুরো দেশবাসীকে শোকাহত করেছে। তবে এই সশস্ত্র প্রতিরোধের মুখেও দমে যায়নি যৌথ বাহিনী; বরং তাৎক্ষণিক পাল্টা অভিযানে ওই আস্তানা থেকে জিম্মি অবস্থায় থাকা ৫৬ জন অসহায় মানুষকে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি অপরাধ চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অন্তত ছয়জন মানবপাচারকারীকে আটক করা হয়, যাদের পরবর্তীতে শুক্রবার সকালে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান জানান, পাহাড়ে অপরাধীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিতে এবং বাকি সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী এক প্রতিক্রিয়ায় জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং অপরাধ করে কেউ পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে না। তিনি এই ঘৃণ্য অপরাধ নির্মূলে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় সাধারণ জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতাও কামনা করেন।
পাহাড়ে তিন লাশের সন্ধান পাওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষ বলছেন, টেকনাফের দুর্গম পাহাড়গুলোকে দীর্ঘদিন ধরে অপরাধীদের নিরাপদ অভয়ারণ্য হিসেবে ব্যবহার করে আসছে মানবপাচারকারী ও রোহিঙ্গা অপরাধ চক্র। স্থানীয়দের দাবি, এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাহাড়জুড়ে নিয়মিত যৌথ টহল এবং চিরুনি অভিযান অব্যাহত রাখা অত্যন্ত জরুরি, যাতে অপরাধীরা আর মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সুযোগ না পায়।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।