গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে নেওয়ার পথে প্রিজনভ্যান থেকে শীর্ষ মাদক কারবারি পিচ্চি রাজাকে পালিয়ে যাওয়ার নাটক সাজানোর চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটন করেছে জিএমপি পুলিশ। গত ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে ফেরার পথে পুলিশ সদস্যরা টাকার বিনিময়ে তাকে প্রাইভেটকারে তুলে দেন। এ ঘটনায় এসআই প্রবীর কুমারসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত এবং তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- গত ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা জেলা জজ আদালত থেকে কাশিমপুর কারাগারে ২৯ জন আসামি নিয়ে ফেরার পথে প্রিজনভ্যানের তালা খুলে শীর্ষ মাদক কারবারি পিচ্চি রাজাকে প্রাইভেটকারে তুলে দেয় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা।
- ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় প্রিজনভ্যানের দায়িত্বে থাকা এসআই প্রবীর কুমার ও চালক নায়েক কামাল হোসেনসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
- তদন্তে পুলিশ সদস্যদের ঘুষ নেওয়ার সত্যতা মিলেছে এবং চালক কামাল হোসেনের বাড়ি থেকে ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে; এছাড়া এসআই প্রবীর, চালক কামাল ও আসামির বোন তাসলিমাকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়ার পথে প্রিজনভ্যানের তালা খুলে শীর্ষ মাদক কারবারি রাজা ওরফে পিচ্চি রাজাকে প্রাইভেটকারে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর সত্য উদ্ঘাটন করেছে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি)। সোমবার দুপুরে জিএমপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার এই ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা জেলা জজ আদালত থেকে ২৯ জন আসামিকে নিয়ে কাশিমপুর কারাগারে ফেরার পথে এই নাটক সাজানো হয়।
প্রাথমিক পর্যায়ে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা দাবি করেছিলেন যে, গাজীপুরের বাইমাইলে পৌঁছালে শৌচকর্মের কথা বলে প্রিচ্চি রাজা প্রিজনভ্যান থেকে পালিয়ে গেছেন। তবে জিএমপির তিন সদস্যের পর্যবেক্ষণ কমিটির তদন্তে বেরিয়ে আসে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। তদন্তে দেখা যায়, ঢাকার তাঁতীবাজার থেকেই প্রিজনভ্যানের চাবি নিয়ে এসআই প্রবীর কুমার তালা খুলে রাজাকে নামিয়ে নেন এবং একটি প্রাইভেটকারে তুলে দেন। পরবর্তীতে বাইমাইলে এসে প্রিজনভ্যানের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে আসামি পালিয়ে যাওয়ার ভুয়া নাটক সাজানো হয়।
এই ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের ঘুষ লেনদেনের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযানে চালক নায়েক কামাল হোসেনের বাড়ি থেকে ঘুষের ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর কোনাবাড়ী থানায় মামলা হওয়ার পর মামলার তদন্তভার ডিবির পরিদর্শক সৈয়দ মিজানুর ইসলামের কাছে ন্যস্ত করা হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত এসআই প্রবীর কুমার, চালক কামাল হোসেন এবং পলাতক পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমা আক্তারকে গ্রেফতার করেছে জিএমপির গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে একাধিক মামলার আসামি ও শীর্ষ মাদক কারবারি পিচ্চি রাজাকে গ্রেফতার করেছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভ্যন্তরে এমন দুর্নীতি ও অপেশাদার আচরণ জনমনে গভীর শঙ্কার সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে পলাতক পিচ্চি রাজাকে পুনরায় গ্রেফতার এবং ঘটনায় জড়িত বাকি সহযোগীদের আইনের আওতায় আনতে গাজীপুর মহানগর ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।