রোববার ঢাকা, সাভার ও গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের গাড়িতে আগুন ও কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে নামে বিজিবি এবং মিরপুরে আওয়ামী লীগের ১১ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে জরুরি বৈঠক শেষে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ছয় সদস্যের নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিয়ে শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানান।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- পোশাক খাতে চলমান অস্থিরতা ও ভাঙচুরের পেছনে আওয়ামী লীগের ইন্ধন রয়েছে বলে দাবি করেছেন শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, এবং মিরপুরে সংঘর্ষের ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ১১ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
- পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রোববার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও শ্রমমন্ত্রীসহ উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সীমান্ত পার থেকেও অস্থিরতা সৃষ্টির ইন্ধন জোগানোর অভিযোগ আনা হয়।
- শ্রমিকদের দাবি ও চলমান সংকট নিরসনে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানকে চেয়ারম্যান করে ছয় সদস্যবিশিষ্ট নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রোববার রাজধানী ঢাকার মিরপুর, সাভার এবং পার্শ্ববর্তী গাজীপুর ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের দাবিতে তীব্র বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন পোশাক শ্রমিকরা। সকাল থেকেই বিভিন্ন কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে এবং মিরপুরে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের সাথে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি চরমে পৌঁছালে বিক্ষুব্ধরা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গাজীপুরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়। এই সহিংসতা ও ভাঙচুরের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ১১ জনকে মিরপুর থেকে গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
শিল্পাঞ্চলের এই আকস্মিক ও সহিংস অস্থিরতার নেপথ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র দেখছে সরকার। রোববার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, ডিসেম্বর মাসকে সামনে রেখে পোশাক খাতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসররা এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। সরকার বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করবে এবং কারখানায় উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানান, নিরীহ পোশাক শ্রমিকদের সামনে রেখে সীমান্তের ওপার থেকে একটি চক্র দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। শ্রমিকদের মজুরি সংক্রান্ত দাবি মালিকপক্ষের সাথে আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানযোগ্য ছিল, কিন্তু সহিংস আন্দোলনে মুখোশধারীরা প্রবেশ করে অরাজকতা সৃষ্টি করেছে। এই সংকট নিরসনে সরকারের পক্ষ থেকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে ছয় সদস্যের একটি নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানকে এই বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়েছে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন আহমেদকে নিরপেক্ষ প্রতিনিধি রাখা হয়েছে।
শ্রমিকদের পক্ষ থেকে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকার দাবি তোলা হলেও, সরকার গঠিত এই স্বাধীন বোর্ডের মাধ্যমে দ্রুত বাস্তবসম্মত মজুরি নির্ধারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বিকেএমইএ'র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমসহ পোশাক শিল্প মালিকরা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে শ্রম আইনের ১৩(১) ধারা অনুযায়ী অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ রাখতে বাধ্য হবেন তারা। সরকার একদিকে মজুরি বোর্ড গঠন করে শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানালেও, অন্যদিকে কঠোর অবস্থানে রয়েছে যাতে রপ্তানিমুখী এই প্রধান শিল্পখাতে কোনো ধরনের নাশকতা বা উৎপাদন ব্যাহত না হয়।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।