আসন্ন পুরভোটে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায় গতি আনতে অভিনব ড্রপবক্স পদ্ধতি চালু করেছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও কলকাতা পুরভোটে দলের ইনচার্জ সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, আগামী ২৬ অক্টোবর বিকেল ৫টার মধ্যে আগ্রহীদের এই বক্সে আবেদন জমা দিতে হবে। কালীপুজোর পর নভেম্বরের শেষের দিকে ভোট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দল জানিয়েছে, স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও জয়ের সম্ভাবনার ওপর ভিত্তি করে প্রার্থী নির্বাচন করা হবে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- আসন্ন পুরভোটে বিজেপির টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের আগামী ২৬ অক্টোবর বিকেল ৫টার মধ্যে নির্দিষ্ট ড্রপবক্সে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে।
- কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও কলকাতা পুরভোটে বিজেপির ইনচার্জ সুকান্ত মজুমদার স্পষ্ট করেছেন যে, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি বিধানসভা নির্বাচন ও দলের দুর্দিনে পাশে থাকা পুরনো কর্মীদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
- কলকাতা পুরসভার ১৪৪টি ওয়ার্ডেই পদ্মফুল প্রতীক নিয়ে লড়াই করবে দল এবং প্রার্থীর স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতাকে মূল মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
আসন্ন পুরভোটে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায় গতি আনতে সম্পূর্ণ অভিনব এক পদক্ষেপ করল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দলের হয়ে পুরভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য ড্রপবক্সে আবেদন জমা দেওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা কলকাতা পুরভোটে বিজেপির ইনচার্জ সুকান্ত মজুমদার স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগামী ২৬ অক্টোবর বিকেল ৫টার মধ্যে আগ্রহীদের ড্রপবক্সে তাদের আবেদনপত্র জমা করতে হবে। কালীপুজোর পরেই, অর্থাৎ নভেম্বরের শেষের দিকে রাজ্যে পুরভোট হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। এই আবহে রাজনৈতিক প্রস্তুতিতে বিন্দুমাত্র ফাঁক রাখতে চাইছে না গেরুয়া শিবির।
প্রার্থী বাছাইয়ের এই নতুন প্রক্রিয়া সম্পর্কে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমাজের বিশিষ্ট মানুষ যাঁরা সরাসরি রাজনীতিতে এসে ভোটে লড়তে আগ্রহী, তাঁদের জন্য দলের দরজা খোলা রয়েছে। তবে প্রাথমিক তালিকায় অগ্রাধিকার পাবেন দলের পুরনো কর্মী ও কার্যকর্তারাই। বিশেষ করে বিগত বিধানসভা নির্বাচনের আগে এবং দলের চরম রাজনৈতিক দুর্দিনে যাঁরা ঝুঁকি নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁদের অবমূল্যায়ন করা হবে না। সুকান্ত মজুমদারের মতে, রাজনীতিতে অসম্ভব বলে কিছু না থাকলেও পুরনো বিজেপি কর্মীদের ত্যাগ ও নিষ্ঠাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।
একইসঙ্গে বিজেপি নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কলকাতা পুরসভার সবক’টি ওয়ার্ডে দল এবার এককভাবে পদ্মফুল প্রতীক নিয়েই লড়াই করবে। প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কয়েকটি অত্যন্ত কঠোর ও নির্দিষ্ট মাপকাঠির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। সুকান্ত মজুমদার জানান, যাঁর নির্বাচনী বৈতরণী পার করার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে, যাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং সাধারণ মানুষের কাছে যাঁর গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নাতীত, তাঁকেই চূড়ান্ত টিকিট দেওয়া হবে। কোনো একক নেতার মর্জিতে নয়, বরং বুথ স্তর থেকে শুরু করে সাংগঠনিক কাঠামোর উচ্চস্তর পর্যন্ত দলীয় নেতাকর্মীদের মতামত নিয়েই চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা তৈরি করা হবে।
ভোটের নির্ঘণ্ট নির্বাচন কমিশন কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হওয়ার মাত্র ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে যাতে সম্পূর্ণ ও নির্ভুল প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা যায়, সেই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে রাজ্য বিজেপি। মূলত এই কারণেই ড্রপবক্সে আবেদন জমা নেওয়ার মতো দ্রুত ও আধুনিক পদ্ধতির মাধ্যমে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রাথমিক কাজ আগামী ২৬ অক্টোবরের মধ্যেই পুরোপুরি গুটিয়ে ফেলতে চাইছে দলটি, যা রাজ্য রাজনীতিতে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।