বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়তে পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। সভায় আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের মাদার ট্রি চিহ্নিত করে সংরক্ষণ, ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা এবং অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের গাছের ঘাটতি পূরণের কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের সব 'মাদার ট্রি' বা মাতৃবৃক্ষ চিহ্নিত করে সেগুলো সংরক্ষণের বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
- দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর ambitious পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি নিয়মিত পরিচর্যা ও তদারকি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- রাজধানী ঢাকার বায়ুদূষণ দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষ তালিকায় থাকায় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী একে দেশের জন্য লজ্জাজনক বলে অভিহিত করেছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নবিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের সভায় তিনি এই আহ্বান জানান। সরকারি কর্মকর্তাদের কেবল নয়টা-পাঁচটা দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দেশের স্বার্থে অতিরিক্ত উদ্যোগী হওয়ার তাগিদ দেন সরকারপ্রধান।
সভায় পরিবেশ ও বন সংরক্ষণে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর মধ্যে আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের বনাঞ্চলে অবস্থিত 'মাদার ট্রি' বা মাতৃবৃক্ষগুলো চিহ্নিত করে তা সংরক্ষণের উদ্যোগ অন্যতম। পাশাপাশি, সারাদেশে মোট ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং রোপণকৃত চারাগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা ও পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বনায়ন বাড়ানোর কার্যকর উপায় বের করতেও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
রাজধানী ঢাকার বায়ুদূষণ পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় প্রথম বা দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা অত্যন্ত লজ্জার বিষয়। এই অবস্থা পরিবর্তনে কেবল সরকারি উদ্যোগ নয়, সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করে পৃথক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের পরিকল্পনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া, অন্যান্য মন্ত্রণালয় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম গাছ লাগালে সেই ঘাটতি পূরণে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়কে অগ্রণী ভূমিকা পালনের সিদ্ধান্ত হয়।
প্রাকৃতিক পরিবেশের পরিসর বাড়াতে ছাদবাগান, স্কুলবাগান এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ভবনে বাগান তৈরিতে জনসচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনাগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের পরিবেশগত মানে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর বাসযোগ্য ভূমি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।