ভারতের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারে স্টারলিংকের লাইসেন্স প্রাপ্তিতে বাধা সৃষ্টির জন্য দেশটির মুষ্টিমেয় ধনকুবেরদের দায়ী করেছেন টেসলা প্রধান ইলন মাস্ক। তাঁর এই মন্তব্যের পর লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এক্স হ্যান্ডলে প্রতিক্রিয়া জানালে মাস্ক তাঁকে ধন্যবাদ জানান। মোদি সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, টেলিকম খাতে সম্পূর্ণ পক্ষপাতহীন ব্যবস্থা বজায় রাখা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ইলন মাস্ক অভিযোগ করেছেন যে, ভারতের মুষ্টিমেয় কিছু ধনকুবের স্টারলিংককে দেশটিতে ব্যবসা করার লাইসেন্স পেতে বাধা দিচ্ছে এবং তিনি সরাসরি আম্বানির দিকে ইঙ্গিত করে প্রশ্ন তোলেন তিনিই কি ভারতের আসল হর্তাকর্তা।
- কংগ্রেস সাংসদ ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী মাস্কের এই মন্তব্যের জবাবে এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, 'ভারতে স্বাগত ইলন। অন্য জনের ব্যাপারেও জানতে পারবেন। অপেক্ষা করুন'।
- কেন্দ্রীয় নরেন্দ্র মোদি সরকার মাস্কের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, স্যাটেলাইটসহ সকল টেলিকমিউনিকেশন পরিষেবায় একটি সুষ্ঠু ও পক্ষপাতহীন ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
স্যাটেলাইটের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্টারলিংকের ভারতে ব্যবসা শুরু করা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বিশ্বের অন্যতম ধনকুবের ইলন মাস্ক সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করেছেন যে, ভারতের মুষ্টিমেয় কিছু প্রভাবশালী ধনকুবের বা অলিগার্কদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে তাঁদের সংস্থাকে লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে না। ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী ভারতের ১১ হাজার ২৫৬টি গ্রামে এখনও ফোরজি (4G) সেবা না পৌঁছানোর প্রসঙ্গ টেনে মাস্ক বলেন, ভারতীয় সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে এটি এক ধরনের অপরাধ। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিশ্বের ১৬৫টিরও বেশি দেশে স্টারলিংকের লাইসেন্স থাকলেও গত পাঁচ বছর ধরে সমস্ত শর্ত মেনে চলার পরও ভারতে লাইসেন্স পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে মাস্ক সরাসরি মুকেশ আম্বানির দিকে ইঙ্গিত করে প্রশ্ন তোলেন যে, আম্বানিই কি তবে ভারতের আসল হর্তাকর্তা? মাস্কের এই বিস্ফোরক মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং তা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়। সকলের নজর কেড়ে এই বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন ভারতের লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। মাস্কের পোস্টের প্রত্যুত্তরে রাহুল লেখেন, 'ভারতে স্বাগত ইলন। অন্য জনের ব্যাপারেও জানতে পারবেন। অপেক্ষা করুন'। এর জবাবে ইলন মাস্ক রাহুল গান্ধীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন যে বিষয়টি সত্যিই অত্যন্ত সমস্যার।
ইলন মাস্কের এই গুরুতর অভিযোগ ও রাহুল গান্ধীর মন্তব্যের পর ভারতীয় রাজনীতিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে নরেন্দ্র মোদি সরকার মাস্কের সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে যে, ভারতে টেলিকমিউনিকেশন এবং স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবার ক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য করা হয় না এবং সরকার সব সময় একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও পক্ষপাতহীন প্রতিযোগিতামূলক বাজার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
বিশ্লেষকদের মতে, স্টারলিংকের মতো বহুজাতিক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট কোম্পানির ভারতে প্রবেশাধিকার দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো ও ব্রডব্যান্ড বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। তবে দেশীয় টেলিকম জায়ান্টদের ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়া নিয়ে এই বিতর্ক আগামী দিনে ভারতীয় প্রযুক্তি ও বাণিজ্যের বাজারে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।