আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ১০টি জরুরি পণ্যের আমদানি এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) মার্জিন ন্যূনতম পর্যায়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চাল, গম, পেঁয়াজ, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, ডিম, ছোলা, মটর ও খেজুর আমদানিতে ব্যাংকগুলোকে এই বিশেষ সুবিধা দিতে বলা হয়েছে। মূলত সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রেখে মূল্যবৃদ্ধি রোধ করাই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় চাল, গম, পেঁয়াজ, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, ডিম, ছোলা, মটর ও খেজুর—এই ১০টি নিত্যপণ্য আমদানির ক্ষেত্রে এলসি মার্জিন ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
- কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) থেকে জারি করা এই সার্কুলারটি দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
- এই বিশেষ সুবিধাটি ২০২৫ সালের পবিত্র রমজান মাস পর্যন্ত বলবৎ থাকবে, যাতে আমদানিকারকরা পর্যাপ্ত পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারেন এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে নিত্যপণ্যের বাজারমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক নির্দেশনায় চাল, গম, পেঁয়াজ, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, ডিম, ছোলা, মটর ও খেজুর আমদানির ক্ষেত্রে এলসি মার্জিন ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার জন্য সব তফসিলি ব্যাংককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে আমদানিকারকরা সহজ শর্তে ঋণপত্র খুলতে পারবেন, যা বাজারে পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
সাধারণত ডলার সংকটের কারণে ব্যাংকগুলো এলসি খোলার ক্ষেত্রে উচ্চহারে মার্জিন দাবি করে, যা অনেক সময় আমদানিকারকদের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ায়। রমজান মাসে এসব পণ্যের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এই বাড়তি চাহিদা মেটাতে এবং বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমদানিকারকদের জন্য এই নীতিগত শিথিলতা প্রদান করেছে। এর আগে বিভিন্ন সময়েও রমজানকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একই ধরনের বিশেষ সুবিধা প্রদান করে আসছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। আমদানিকারকদের এলসি মার্জিন শিথিল করার ফলে পণ্যের আমদানি ব্যয় কমবে এবং বাজারে পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠনগুলোও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে, তবে তারা ডলারের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
এই সিদ্ধান্তের ফলে রমজান মাসে বাজারে পণ্যের সরবরাহ বাড়বে এবং অসাধু চক্রের কারসাজি রোধ করা সহজ হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তবে কেবল এলসি মার্জিন শিথিল করলেই হবে না, বরং আমদানিকৃত পণ্য যাতে দ্রুত খালাস হয় এবং বাজারে সঠিক দামে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে কঠোর নজরদারি বজায় রাখতে হবে। এই সমন্বিত উদ্যোগই সাধারণ মানুষের জন্য রমজানের বাজারকে স্বস্তিদায়ক করতে পারে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।