রংপুরের মিঠাপুকুরের বৈরাগীগঞ্জ এলাকায় বুধবার সকালে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বালুভর্তি ডাম্প ট্রাকে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় ভাই-বোনসহ চারজন নিহত ও অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামগামী খান এন্টারপ্রাইজের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস আহতদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টায় রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বৈরাগীগঞ্জ এলাকায় শাহ আমানত পেট্রোল পাম্পের সামনে এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
- নিহত চারজন হলেন- কুড়িগ্রামের মোজাফফর রহমান (৩৫), তাঁর বোন গোলাপী বেগম (৪০), উলিপুরের আলমগীর হোসেন (৫০) এবং বাসের হেলপার লালমনিরহাটের আপেল মাহমুদ (২৫)।
- দুর্ঘটনায় আহত অন্তত ১২ জনকে দ্রুত উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বড়দরগা হাইওয়ে থানার ওসি মোয়াজ্জেম উদ্দিন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বৈরাগীগঞ্জ এলাকায় মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বালুভর্তি ডাম্প ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় ভাই-বোনসহ চারজন নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় অন্তত ১২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীগামী খান এন্টারপ্রাইজের একটি যাত্রীবাহী বাস দ্রুতগতিতে এসে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকটিকে সজোরে ধাক্কা দিলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, ভোরে বৈরাগীগঞ্জের শাহ আমানত পেট্রোল পাম্পের বিপরীত পাশে মাজার মসজিদের সামনে মাটিভর্তি ডাম্প ট্রাকটি দাঁড়িয়ে ছিল। কুড়িগ্রামগামী যাত্রীবাহী বাসটি আকস্মিকভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটির পেছনের অংশে ধাক্কা দেয়। এতে বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং বাসের হেলপার ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। বাকি আহত যাত্রীদের দ্রুত উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়।
বড়দরগা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় জনতা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালায়। বাস থেকে আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। মহাসড়কে অবৈধভাবে ভারী যান দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
মহাসড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং রাতের বা ভোরে কুয়াশা কিংবা চালকদের অসাবধানতার কারণে ঘটা এসব দুর্ঘটনা রোধে ট্রাফিক পুলিশ ও হাইওয়ে কর্তৃপক্ষের নজরদারি আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। অতিরিক্ত গতি এবং দাঁড়ানো যানের পেছনে পর্যাপ্ত সিগন্যাল বা রিফ্লেক্টর না থাকার কারণে এ ধরনের প্রাণহানি বাড়ছে, যা রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।