পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য নির্ধারিত ইউরেনিয়াম জ্বালানি সময়মতো আনা সম্ভব হচ্ছে না। তবে রুশ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রোসাটমের সঙ্গে নতুন রুট নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা চলছে এবং আগামী অক্টোবর মাস থেকে এই জ্বালানি চালান দেশে পৌঁছানোর নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়াম আমদানির নির্ধারিত প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বিলম্বিত হয়েছে।
- রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের সঙ্গে বিকল্প রুট ও ট্রানজিট ব্যবস্থা নিয়ে বাংলাদেশের পরমাণু শক্তি কমিশনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- সর্বশেষ কূটনৈতিক ও কারিগরি পর্যালোচনার পর আগামী অক্টোবর মাস থেকে রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়াম চালান বাংলাদেশে আসা শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় ইউরেনিয়াম জ্বালানি আমদানির প্রক্রিয়ায় নতুন জটিলতা দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত রুট অনুযায়ী পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় জ্বালানি পরিবহন কার্যক্রম কিছুটা পিছিয়ে গেছে। এর ফলে নির্ধারিত সময়ে জ্বালানি চালান বাংলাদেশে পৌঁছানো নিয়ে সাময়িক অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও বিকল্প আকাশপথ বা সমুদ্রপথ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে தீவிர আলোচনা চলছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের মতো দ্বিতীয় ইউনিটের জন্যও জ্বালানি সরবরাহের চুক্তি রয়েছে রাশিয়ার রোসাটমের সঙ্গে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক জটিলতা এবং পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ার ফলে লজিস্টিকস ও কারিগরি দলগুলোকে বিকল্প ট্রানজিট রুট খুঁজতে হচ্ছে। এর আগে প্রথম ইউনিটের ইউরেনিয়াম সফলভাবে দেশে আসলেও দ্বিতীয় ইউনিটের ক্ষেত্রে এই ভূরাজনৈতিক বাধা তৈরি হয়।
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, রাশিয়ার পক্ষ থেকে বিকল্প রুট হিসেবে মধ্য এশিয়া বা অন্য কোনো নিরাপদ আকাশসীমা ব্যবহারের প্রস্তাব নিয়ে কাজ চলছে। এ বিষয়ে রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে যাতে নিরাপত্তার সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়।
এই বিলম্বের ফলে প্রকল্পের সামগ্রিক কার্যক্রমে বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে আশ্বস্ত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। আগামী অক্টোবর মাস থেকে ইউরেনিয়াম চালান আসা শুরু হলে রূপপুর প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের কমিশনিং ও পরীক্ষামূলক উৎপাদনের কাজ আরও গতি পাবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দেশের জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য অর্জিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।