সারা দেশে আগামী বৃহস্পতি ও শুক্রবার তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস বিক্রি নিশ্চিতকরণ ও অতিরিক্ত দাম আদায়ের কারসাজি বন্ধের দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এই দুই দিন গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ ও খুচরা বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- সারা দেশে আগামী বৃহস্পতি ও শুক্রবার এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
- সরকার নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করা এবং বাজারে চলমান অতিরিক্ত দাম আদায়ের সিন্ডিকেট ভাঙার দাবিতে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
- এলপিজি বিক্রি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ ভোক্তা এবং আবাসিক ও বাণিজ্যিক রান্নার কাজে তীব্র জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
সারা দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরা আগামী বৃহস্পতি ও শুক্রবার দুই দিনব্যাপী গ্যাস বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। মূলত দীর্ঘদিন ধরে বাজারে চলা এলপিজি সিলিন্ডারের দামের কৃত্রিম সংকট এবং নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দাম আদায়ের প্রতিবাদ ও সংশোধনের দাবিতে এই কঠোর কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে দেশজুড়ে খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ সম্পূর্ণ থমকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গত বেশ কিছুদিন ধরে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কর্তৃক প্রতিমাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও মাঠ পর্যায়ে তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্ধারিত দামের চেয়ে সিলিন্ডারপ্রতি অতিরিক্ত ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দাম আদায়ের অভিযোগ করে আসছে ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলো। এই অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা রোধে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের একটি পক্ষ সরবরাহে এই আকস্মিক বিরতির ঘোষণা দেয়, যার ফলে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
খুচরা বিক্রেতা ও ডিলার সমিতির প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, পাইকারি বাজার থেকেই তাদের বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য করা হয়, যার প্রভাব পড়ে খুচরা বাজারে। এমতাবস্থায় সরকারি তদারকি বাড়িয়ে নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্যদিকে, আকস্মিক এই দুই দিনের ধর্মঘট বা বিক্রয় বন্ধের ঘোষণায় রাজধানীসহ সারা দেশের বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং বাসা-বাড়ির রান্নার কাজে তীব্র গ্যাস সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি খাতের এই অস্থিরতা রোধে অবিলম্বে বিইআরসি এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জোরালো তদারকি প্রয়োজন। অন্যথায় সাধারণ ভোক্তাদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের এই চক্র আরও দীর্ঘায়িত হবে এবং বাজারে স্থায়ী বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে। সংকট নিরসনে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।