এআই ও সেমিকন্ডাক্টর বিপ্লবে পিছিয়ে না পড়ে বৈশ্বিক নেতৃত্বে পৌঁছাতে ভারতের প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট জাতীয় কৌশল ও কাঠামোগত পরিবর্তন। তাইওয়ান ও চীন যখন শত শত বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে, তখন ভারতে ১.৬৪ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি মিললেও ফোকাস মূলত পুরনো পদ্ধতির প্যাকেজিংয়ের ওপর। গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, লাভজনক চিপ ডিজাইন ও এআই ইনফারেন্স মার্কেটে মনোযোগ দেওয়া জরুরি।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- সেমিকন্ডাক্টর খাতে চীন ২০১৫ সাল থেকে প্রায় ১৫০ বিলিয়ন ডলার এবং আমেরিকা 'চিপস অ্যাক্ট'-এর মাধ্যমে ৫৩ বিলিয়ন ডলার ভর্তুকি দিয়ে ৪৫০ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছে।
- 'সেমিকন ইন্ডিয়া ২০২৬' সামিটে ১২টি ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটের বিপরীতে ১.৬৪ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব এলেও এর ৯টিই পুরনো ধাঁচের কম লাভজনক এটিএমপি বা ওএসএটি প্যাকেজিং ইউনিট।
- ভারতেও প্রায় ১ লক্ষ ২৫ হাজার দক্ষ চিপ ডিজাইন ইঞ্জিনিয়ার রয়েছে, তাই আইএসএম ২.০ এবং ডিএলআই স্কিমের আওতায় ডিজাইন আইপি, রিসার্চ ইনস্টিটিউট ও এআই ইনফারেন্স চিপ প্রোগ্রামে জোর দেওয়া প্রয়োজন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির উৎকর্ষই নির্ধারণ করবে আগামী শতকে কোন দেশ বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করবে। তাইওয়ানের একচেটিয়া রাজত্ব এবং দক্ষিণ কোরিয়া বা চীনের বিশাল বিনিয়োগের বিপরীতে ভারতও সেমিকন্ডাক্টর মিশন (ISM) এবং ডিজাইন লিঙ্কড ইনসেনটিভ (DLI) স্কিমের মতো উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এই প্রযুক্তির দৌড়ে টিকে থাকতে হলে কেবল প্রথাগত উৎপাদন নয়, বরং কাঠামোগত আমূল পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, 'সেমিকন ইন্ডিয়া ২০২৬' সামিটে ১২টি ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটের ছাড়পত্র এবং ১.৬৪ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি মিললেও, এর মধ্যে ৯টিই পুরনো ধাঁচের এটিএমপি বা ওএসএটি (ATMP/OSAT) ফেসিলিটি। ওয়্যার-বন্ড প্যাকেজিংয়ের এই ক্ষেত্রগুলোতে ভ্যালু অ্যাডিশন ও গ্রস মার্জিন অত্যন্ত কম (মাত্র ৬ শতাংশ)। অথচ এনভিডিয়া কিংবা এআই জিপিইউর অ্যাডভান্সড প্যাকেজিং এবং নিজস্ব ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি (IP) দিয়ে চিপ ডিজাইন করলে লাভের হার ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যাপল ও স্যামসাংয়ের কারখানা স্থানান্তরের সুবাদে 'চায়না প্লাস ওয়ান' স্ট্র্যাটেজিতে ভারত আইফোন অ্যাসেম্বলিতে সাফল্য পেলেও, সেমিকন্ডাক্টর সেক্টর সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি কাঠামোগত বিপ্লব দাবি করে। ভারতে বর্তমানে প্রায় ১ লক্ষ ২৫ হাজার দক্ষ চিপ ডিজাইন ইঞ্জিনিয়ার থাকলেও দেশটিতে গবেষণার পরিকাঠামোযুক্ত কোনো নির্দিষ্ট ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর রিসার্চ ইনস্টিটিউট গড়ে ওঠেনি, যা দীর্ঘমেয়াদে বড় খামতি হিসেবে রয়ে গেছে।
এআই বিপ্লবের ফলে সেমিকন্ডাক্টর বাজার দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ায় ভারতের সামনে 'ইনফারেন্স' বাজারের মতো উন্মুক্ত ক্ষেত্রগুলোতে কাজ করার সোনালী সুযোগ রয়েছে। তাই আইএসএম ২.০-এর আওতায় এনআইআইএফ মডেলে ১০০০ কোটি টাকার চিপ ডিজাইন কমার্শিয়ালাইজেশন ফান্ড গঠন এবং সরাসরি ক্রয়ের গ্যারান্টিযুক্ত এআই ইনফারেন্স চিপ প্রোগ্রাম চালুর মাধ্যমে ভারত যদি প্রযুক্তি ও ডিজাইনে সরাসরি জাতীয় কৌশল গ্রহণ করে, তবেই বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় শীর্ষস্থান অর্জন সম্ভব হবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।